patrika71
ঢাকামঙ্গলবার - ৩ জানুয়ারি ২০২৩
  1. অনুষ্ঠান
  2. অনুসন্ধানী
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আবহাওয়া
  7. ইসলাম
  8. কবিতা
  9. কৃষি
  10. ক্যাম্পাস
  11. খেলাধুলা
  12. জবস
  13. জাতীয়
  14. ট্যুরিজম
  15. প্রজন্ম
আজকের সর্বশেষ সবখবর

যশোর বছরের প্রথম ২ দিনেই রোড এক্সিডেন্টে নিহত ৪

উপজেলা প্রতিনিধি, মনিরামপুর
জানুয়ারি ৩, ২০২৩ ৬:২৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

আর কত প্রাণ ঝরলে, আর কত মানুষের রক্তে সড়ক-মহাসড়ক রঞ্জিত হলে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা কমবে? দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবার-পরিজনের হৃদয় বিদীর্ণ করা আহাজারি আর কত দেখতে হবে?

বছরের প্রথম দুই দিনেই যশোরে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪ ২০২৩ এর প্রথম দিনে রোববার (১ জানুয়ারি) বিকেলে যশোর-চৌগাছা সড়কের চুড়ামন কাটির আমিন ইটভাটার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

এতে নিহত হন- যবিপ্রবির পেট্রোলিয়াম ও মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী সুমি (২৩), যশোর সদরের ববিলা গ্রামের জোহরা খাতুন (৫০) ও ভ্যানচালক চুড়ামন কাটি ইউনিয়নের সরদার বাগডাঙ্গা গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে মাসুম (৩০)।

আহত দুজন হলেন- নিহত সুমির স্বামী যবিপ্রবির ফিজিক্যাল অ্যান্ড স্পোর্টস এডুকেশনের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মোতাসিম বিল্লাহ এবং নিহত জোহরা খাতুনের স্বামী আমজাদ হোসেন (৫৫)।

বিকেল ৪টার পরপর এ ঘটনা ঘটে। বিএডিসির একটি ট্রাকের সাথে ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে সুমি ও ভ্যানচালক মাসুমের মৃত্যু হয়। আহতদের উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পর মৃত্যু হয় জোহরা খাতুনের।

এবং ২য় দিন সোমবার সাতক্ষীরা থেকে যশোরের উদ্দেশ্য ছেড়ে আসা জিম এন্টারপ্রাইজ পাবনা জ ১১০০৯৯ লোকাল বাস হাড়ি খালি বাজার সংলগ্ন আসলে অপর দিক থেকে মোটরসাইকেলে থাকা যুবকের সাথে পথিমধ্যে সংঘর্ষ হয়।মোটরসাইকেলে থাকা ওই যুবক বাসের চাকার নিচে পড়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হয়।

সড়ক-মহাসড়কে যে হারে দুর্ঘটনা ঘটছে, তা প্রত্যক্ষ করে স্তম্ভিত হওয়া ছাড়া যেন আর কিছু করার থাকছে না। বর্তমানে পত্র-পত্রিকাগুলোর অধিকাংশেরই শীর্ষ সংবাদ সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষের আহত-নিহতের সংবাদ। মহাসড়ক মৃত্যুফাঁদ, রক্তাক্ত মহাসড়ক, এ ধরনের শিরোনাম পড়ে হৃদয়-মন ব্যথিত না হয়ে পরে না। প্রায় প্রতিদিনই দেশের কোনো না কোনো সড়ক-মহাসড়কে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটছে। এসব দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে গাড়ি চালকের বেপরোয়া ড্রাইভিং, ওভার টেকিং, ফিটনেসবিহীন গাড়ি, সড়কের খানা-খন্দ ও বিপজ্জনক মোড়। বহু লেখালেখি হলেও এসব কারণ প্রতিকার করা দূরে থাক, দিন দিন দুর্ঘটনার হার বেড়েই চলেছে।

উদ্বেগের বিষয় হল, সড়কে মৃত্যু কমছে না কিছুতেই, বরং দিন দিন বড় হচ্ছে ‘মৃত্যুর মিছিল’।

সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের এ ব্যাপকতা মেনে নেয়া যায় না। প্রতিদিন আমাদের যদি এমন বেদনাদায়ক ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়, তাহলে নিরাপদ সড়কের দাবিতে এত আন্দোলন, এত পদক্ষেপ কী কাজে লাগল? অধিকাংশ ক্ষেত্রে চালকের খামখেয়ালিপনা এবং নিয়ম না মেনে গাড়ি চালনার কারণেই দুর্ঘটনা ঘটে। এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে প্রতি বছর সড়কপথে অন্তত পাঁচ হাজার দুর্ঘটনা ঘটছে। এসব দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছে কমপক্ষে চার হাজার মানুষ। পঙ্গুত্ব বরণকারীর সংখ্যা এর প্রায় দ্বিগুণ। আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা।

দেশে সড়ক দুর্ঘটনা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ পরিবহন খাতে বিরাজমান বিশৃঙ্খলা। পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতাদের দাপটে দোষী চালকদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেয়া যায় না। অন্যদিকে আইন মানার ক্ষেত্রে পথচারীরাও আন্তরিক নয়। ঝুঁকি নিয়ে বাসে ওঠানামা ছাড়াও চলন্ত বাসের সামনে হাত উঁচিয়ে দৌড়ে রাস্তা পার হওয়াটা যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে।

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কঠোর আইন এবং এর বাস্তবায়ন অবশ্যই প্রয়োজন। তবে একইসঙ্গে মানুষকে সচেতনও করতে হবে। মানুষ সচেতন হলে নিঃসন্দেহে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং দুর্ঘটনার হার কমে আসবে।

সড়ক দুর্ঘটনার কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে বিভিন্ন মহল থেকে নানা ধরনের পরামর্শ দেয়া হলেও তা যে অরণ্যে রোদনে পর্যবসিত হচ্ছে, দুর্ঘটনার হার না কমাই তার প্রমাণ। অথচ সড়ক-মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা কঠিন কোনো বিষয় নয়।

এজন্য দরকার সরকারের সদিচ্ছা ও সমন্বিত পদক্ষেপ। দেশে সড়ক ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থা যুক্ত থাকলেও দুর্ঘটনা রোধের ব্যাপারে তাদের দৃঢ় প্রত্যয়ের অভাব রয়েছে। থাইল্যান্ড ২০১১ সালে ঘোষণা দিয়েছিল, তারা ২০২০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনার হার অর্ধেকে নামিয়ে আনবে এবং ইতিমধ্যেই এ কাজে তারা সফল হয়েছে। আমাদের দেশে সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে সরকারের পাশাপাশি পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠন, পথচারী-যাত্রী, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এবং গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

পত্রিকা একাত্তর/ মোজাপ্ফার হুসাইন