patrika71 Logo
ঢাকারবিবার , ২২ আগস্ট ২০২১
  1. অনুষ্ঠান
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আন্দোলন
  7. আবহাওয়া
  8. ইভেন্ট
  9. ইসলাম
  10. কবিতা
  11. করোনাভাইরাস
  12. কৃষি
  13. খেলাধুলা
  14. চাকরী
  15. জাতীয়
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শহীদ সুরত আলী দারোগার ৫০ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

পত্রিকা একাত্তর ডেস্ক
আগস্ট ২২, ২০২১ ৩:১১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ad

শহীদ সুরত আলী ১৮৯৩ সালের ১০ জুন রাজশাহী জেলার পত্নীতলা থানা (বর্তমান নওগাঁ জেলার পত্নীতলা উপজেলার) ১০ নং আমাইড় ইউনিয়নের ডাসনগর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। রাজশাহী কলেজ থেকে বিএ পাশ করার পর ১৯১২ সালে ব্রিটিশ পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন। চাকরি জীবনে তিনি রাজশাহী জেলার বিভিন্ন থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই কারণে এলাকায় তিনি সুরত আলী দারোগা নামে পরিচিত। চাকরি জীবন থেকেই তাঁর সাথে এলাকার সাধারণ মানুষের একটা ভালো সখ্যতা ছিল।

তিনি যখন বাড়িতে আসতেন এলাকার মানুষ সবসময় তাঁর কাছে পরামর্শ নিতে ভিড় করতেন এবং তিনি সবাইকে আপন ভেবে পরামর্শ এবং সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে মানুষের মনে জায়গা দখল করেছেন। জনমানুষের সাথে সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি পেতে থাকায় তিনি ১৯৫০ সালে চাকরি থেকে অবসর নিয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় হন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহচর হিসেবে ১৯৫৪ সালে প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে নওগাঁ মহাকুমার নর্থ আসন থেকে যুক্তফ্রন্ট প্রার্থী হিসেবে এমএলএ (মেম্বার অব লেজিসলেটিভ এসেম্বলি) নির্বাচিত হন।

১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে মুক্তিমুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে কাজ করেন তিনি। সে সময় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের তিনি নিজ বাড়িতে আশ্রয় দিতেন এবং অনুপ্রেরণা যোগাতেন। তাঁর অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো থাকায় ভারতের বালুরঘাট মুক্তিযোদ্ধা প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে রসদ সরবরাহ করতেন তিনি। এসব খবর জানতে পারায় ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট সুরত আলীর বাড়িতে পাক সেনারা হামলা চালায় এবং তাঁকে ধরে নিয়ে যায়। তারপর মহাদেবপুর পাক সেনা ক্যাম্পে আটক রেখে তাঁর ওপর নির্মম নির্যাতন চালায় এবং ২২ আগস্ট তাঁকে হত্যা করে তাঁর লাশ আত্রাই নদীতে ভাসিয়ে দেয়। পরে তাঁর লাশের সন্ধান আর পাওয়া সম্ভব হয় নাই।

স্বাধীনতার অনেক বছর অতিক্রান্ত হলেও তাঁর স্মৃতি রক্ষার্থে উল্লেখযোগ্য এমন কিছু ছিল না ।যাইহোক, ২০১৪ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং স্থানীয় সাংসদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় তাঁর গ্রামে অবস্থিত ডাসনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে তাঁর নামানুসারে শহীদ সুরত আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নামকরণ করা হয় এবং শহীদ সুরত আলী স্মৃতি পরিষদ গঠন করা হয় যাতে এই গুণী ব্যক্তির স্মৃতি রক্ষা হয়। আজও তাঁর নাম উচ্চারণ করলে এলাকার ঐ সময়ের মানুষ কেঁদে ফেলেন। এই ইতিহাস লিখতে যারা তথ্য দিয়ে আমাকে সহযোগিতা করেছেন তাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।

আজ শহীদ সুরত আলী দারোগার ৫০ তম শাহাদাত বার্ষিকীতে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই!

মোঃ লিটন হোসেন: বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় রংপুর।

ad