patrika71 Logo
ঢাকাবুধবার , ১৮ আগস্ট ২০২১
  1. অনুষ্ঠান
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আন্দোলন
  7. আবহাওয়া
  8. ইভেন্ট
  9. ইসলাম
  10. কবিতা
  11. করোনাভাইরাস
  12. কৃষি
  13. খেলাধুলা
  14. চাকরী
  15. জাতীয়
আজকের সর্বশেষ সবখবর

উপসচিব পরিচয়ে কোটি টাকা আত্মসাৎ ইউরোপে পাঠানোর নামে

পত্রিকা একাত্তর ডেক্স
আগস্ট ১৮, ২০২১ ৬:২২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ad

একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র ইউরোপে পাঠানোর নামে প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। চক্রটির সদস্যরা নিজেদের উপসচিবসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিতেন। এভাবে অসংখ্য মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়ার পর কথিত অফিস বন্ধ করে দিতেন তারা।

বুধবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে বনশ্রীতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পিবিআইয়ের ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান এসব তথ্য জানান।

এর আগে ভুয়া উপসচিবসহ প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করে পিবিআই। গ্রেফতাররা হলেন- জহিরুল ইসলাম ওরফে রিপন ও মো. আবু ইয়ামিন ওরফে আশিকুর রহমান।

এর মধ্যে জহিরুল ইসলাম ওরফে রিপন ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ থানার গোবিন্দপুর গ্রামের মৃত ফজলুল হকের ছেলে। আর মো. আবু ইয়ামিন ওরফে আশিকুর রহমান ময়মনসিংহ জেলার কাওয়ালাটি ফকিরবাড়ি গ্রামের আব্দুর রশিদ ফকিরের ছেলে।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, ভুয়া ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে মানুষের কাছ থেকে ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে পাঠানোর নামে তিন থেকে চার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় এই চক্র। অনেকের কাছ থেকে টাকা নেয়ার পর কথিত অফিস বন্ধ করে দেন। রাজধানীর গুলশানের ইউনিকর্ন প্লাজায় এই চক্রের অফিসের ঠিকানা থাকলেও বর্তমানে সেখানে তাদের কোনো শাখা বা অফিসের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, ১৫ থেকে ২০ জনের সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের মধ্যে কেউ কেউ নিজেকে উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন। তারা চলাফেরা করতেন দামি গাড়িতে। ভিজিটিং কার্ড বানিয়ে সহজেই মানুষকে বোকা বানিয়ে আসছিলেন। তারা সরকারি চাকরি দেয়ার কথা বলেও বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

মিজানুর রহমান আরও বলেন, প্রতারক চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামি মিলে আল-আরাফাত ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর নামে ভুয়া ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে মানুষের কাছ থেকে ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে পাঠানোর নামে তিন থেকে চার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। এই ঘটনায় ২০২১ সালের ৩১ জুলাই রামপুরা থানায় একটি মামলা করা হয়।

ঘটনাটি পিবিআইয়ের নজরে এলে পিবিআই প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদারের নির্দেশনায় পিবিআই ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ টিম কাজ শুরু করে। পরে তদন্তে বেরিয়ে আসে আসামিদের প্রতারণার বিভিন্ন কৌশল।

তিন বছর পর ভিকটিম উদ্ধার ও মানবপাচার মামলা থেকে ব্যাংকারের মুক্তি

ভিকটিম ইমুনা (১১) গত ২০১৮ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি বনশ্রীর ২ নম্বর রোডের কাউকে কিছু না বলে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। ভিকটিম ইমুনাকে খুঁজে না পেয়ে তার পিতা বাদী হয়ে খিলগাঁও থানায় একটি মামলা করেন। খিলগাঁও থানা পুলিশ প্রায় এক বছর তদন্ত শেষে ভিকটিমকে উদ্ধার করতে না পেরে মামলাটি ২০২০ সালের ৩০ জুলাই চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করেন। বাদীর নারাজির প্রেক্ষিতে আদালত বিগত ২৯ নভেম্বর মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন।

পিবিআই ঢাকা মেট্রোর (দক্ষিণ) পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পিবিআইয়ের একটি বিশেষ টিম কাজ শুরু করে। এরপর এলআইসির আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পিবিআই ঢাকা মেট্রোর (দক্ষিণ) বিশেষ অভিযানে শেরপুর জেলা পুলিশের সহায়তায় ভিকটিম ইমুনাকে ১৬ আগস্ট উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আসামির কাছ থেকে টাকা আদায়ের জন্য ভিকটিম ইমুনাকে তার আত্মীয়রা লুকিয়ে রেখেছিলেন।

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর হারুন বলেন, মামলাটি পিবিআই দায়িত্ব পাওয়ার পরে স্থানীয়ভাবে ভিকটিমের আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করি। বিভিন্ন সোর্স হিসেবে নিয়োগ করি। দুই দিন আগে আমরা জানতে পারি- সে ঢাকার এক জায়গায় আছে। আমরা সেখানে নজরদারি রাখি। পরে সেখান থেকে সে পালিয়ে এক ছেলের সঙ্গে শেরপুর চলে যায়। আমাদের মুভমেন্ট দেখে মেয়েটিকে রেখে ছেলেটি পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় থানা পুলিশের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করি।

মামলার আসামি স্বামী-স্ত্রী এই উদ্ধারের মাধ্যমে মানবপাচারের মতো বিশাল অপরাধ থেকে মুক্তি পায়।

সূত্র: জাগো নিউজ২৪।

ad