patrika71 Logo
ঢাকাশুক্রবার , ২৬ নভেম্বর ২০২১
  1. অনুষ্ঠান
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আন্দোলন
  7. আবহাওয়া
  8. ইভেন্ট
  9. ইসলাম
  10. কবিতা
  11. করোনাভাইরাস
  12. কৃষি
  13. খেলাধুলা
  14. চাকরী
  15. জাতীয়
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ফিসের টাকা দিতে না পারায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয়নি ৮ শিক্ষার্থীকে

পত্রিকা একাত্তর ডেস্ক
নভেম্বর ২৬, ২০২১ ৬:৫৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ad

সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের প্রানকেন্দ্রে অবস্থিত বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয়। একসময়ের স্বনামধন্য এই স্কুলটি বর্তমানে ম্যানেজিং কমিটি ও কিছু শিক্ষকদের কারণে তার সুনাম হারাচ্ছে। শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি, অতিরিক্ত ফি আদায়সহ নানান কার্যক্রমে স্কুলটি প্রশ্নবিদ্ধ। নতুন করে আবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। গতকাল ২৪শে নভেম্বর বুধবার বিদ্যালয়ের সাময়িক পরীক্ষা চলাকালে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ে ব্যর্থ হয়ে ৮ শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেননি স্কুলের শিক্ষক তাজুল ইসলাম।

বিষয়টি জানার জন্য তাইজুল ইসলাম বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং প্রধান শিক্ষকের কাছে শুনতে বলেন। তবে ম্যানেজিং কমিটির নির্ধারিত ১১শত টাকার কথা স্বীকার করেন তিনি। দশম শ্রেণীর ছাত্র মেহেদী হাসান জানান, পরীক্ষার প্রবেশপত্র আনতে গেলে ১১শত টাকা দাবি করেন স্কুলের শিক্ষকরা। দুই-তিনশত টাকা কম দেয়ার কথা বললে কোন টাকা কম নেয়া হবে না বলে জানান। সম্পূর্ণ টাকা দিতে না পারায় স্কুলের দপ্তর গোলাম কিবরিয়া আমাদের বের করে দেন। আলী হোসেন বলেন, অতিরিক্ত অর্থ দাবি বিপরীতে টাকা দিতে না পারায় পরিক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাইনি।

আরো পড়ুনঃ  ৫৪৪ দিন পরে স্কুলে ফিরছেন শিক্ষার্থীরা, প্রান ফিরে পেয়েছে বিদ্যালয়

সোহাগ বলেন, স্কুলের নির্ধারিত ফিস দিতে না পারায় আমারা আটজন শিক্ষার্থী পরিক্ষার সুযোগ পেলাম না।

বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দপ্তর গোলাম কিবরিয়ার কাছে একাধিকবার(০১৯৮১১৯১৪৩৮) নাম্বারটিতে ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আইয়ুব আলী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, স্থানীয় প্রতিনিধি ও ওই ছাত্র দের অভিভাবকদের সাথে কথা হয়েছে। আগামী শনিবার নতুন প্রশ্ন পত্রের মাধ্যমে তাদের গণিত পরীক্ষা নেয়া হবে। অতিরিক্ত ফি আদায়ের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা পাঁচশত টাকা করে নিচ্ছি। পাঁচশত টাকার খাত জানতে চাইলে তিনি বলতে না চেয়ে কৌশলে এড়িয়ে যান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঐ স্কুলের একজন শিক্ষক বলেন, শিক্ষা অফিস থেকে ইমেইলের মাধ্যমে আমাদের প্রশ্নপত্র আসে, সেটি ডাউনলোড দিয়ে নির্ধারিত কাগজে ফটোকপি করে পরীক্ষা নেয়া হয়। ইন্টারনেট ও ফটোকপি বিল বাদ দিয়ে অন্য কোন খরচ নেই। শিক্ষকরাই বিভিন্ন চার্জ ছাত্র-ছাত্রীদের উপর চাপিয়ে দেয়।

আরো পড়ুনঃ  চেয়ারম্যানের ব্যাক্তিগত বাহন সরকারি এ্যাম্বুলেন্স ! প্রয়োজনে পাচ্ছে না রোগীরা

বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আব্দুল গনি বলেন, গত ১৯ তারিখের ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১১শত টাকা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এ সি এফ এম এ হাসানের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, পরে কথা বলেন আমি ব্যাস্ত আছি।

উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মিনা হাবিবের কাছে ফোন দিলে তিনি প্রচুর ব্যস্ত আছেন এখন কথা বলতে পারবেন না বলে জানান। এলাকাবাসী ও সুধী সমাজের দাবি সকল ব্যস্ততা কাটিয়ে উঠে এই ৮ জন শিক্ষার্থীকে ঝরে পড়ার হাত থেকে রক্ষা করবে স্কুল কমিটি ও শিক্ষকরা।

মোঃ আলফাত হাসান: সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি।