patrika71 Logo
ঢাকাসোমবার , ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১
  1. অনুষ্ঠান
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আন্দোলন
  7. আবহাওয়া
  8. ইভেন্ট
  9. ইসলাম
  10. কবিতা
  11. করোনাভাইরাস
  12. কৃষি
  13. খেলাধুলা
  14. চাকরী
  15. জাতীয়
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বারোআড়িয়া নদী ভাঙ্গন রোধে দুই কোটি ৪৮ লাখ টাকার কাজে দূর্নীতির অভিযোগ

পত্রিকা একাত্তর ডেক্স
সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২১ ১:৩২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ad

বটিয়াঘাটা উপজেলার বারোআড়িয়া নদী ভাঙ্গন রোধে বস্তার কাজে অনিয়ম দূর্নীতি অভিযোগ উঠেছে। জাইকার অর্থায়নে বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দুই কোটি ২৪৮ লাখ টাকার কাজ চলছে বটিয়াঘাটা উপজেলার বারোআড়িয়া নদীভাঙ্গন এলাকায়।

ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় সরকার কর্তৃক জিও ব্যাগ এর কাজ ইতোমধ্য শুরু হয়েছে। চলছে নদীতে ফেলা ডামপিং এর কাজও। প্রতিবারের মত এবারও অভিযোগ উঠেছে এই কাজের সাথে জড়িত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান বিরুদ্ধে। নদী ভাঙ্গন কবলিত এলাকা বারোআড়িয়া বাজার থেকে কলেজ মোড় হয়ে চৌমহনা পযর্ন্ত। দীর্ঘ ৭শত মিটার এর বস্তার কাজ চলছে বেরিবাধ রক্ষার জন্য। এই কাজের জন্য ৭৪ হাজার জিও ব‍্যাগের বস্তার বরাদ্দ হয়েছে। এরমধ্যে ২২ হাজার ৬৫০ টি জিও ব্যাগে বালু বরাটের কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন উক্ত কাজের সাথে জড়িত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তারা জানায়,এখানে কোনো অনিয়ম দুর্নীতি ছাড়াই নিরপেক্ষ ভাবে ডাম্পিং এর কাজ চলছে। এই কাজটি পেয়েছেন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান খুলনার রহমান ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি। কাজটি দেখাশোনা করছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের পক্ষে মিঃ বিপ্লব। অভিযোগ উঠেছে,জিও ব্যাগের বালুর বস্তার সেলাই ঠিকঠাক না হওয়ায় নদীতে বস্তা ডামপিং এর সময় সেলাই ফেটে বালু নদীতে পড়ে যাচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে বস্তায় বালু ভরে রাখা হয়েছে দীর্ঘ প্রায় ২/৩ মাস পূর্বে। ফলে বস্তার সেলাই গুনগত মান টেম্পার নষ্ট হয় গেছে।

সম্প্রতি অনিয়ম-দুর্নীতির নানা অভিযোগে তদন্ত এসে সত্যতা পায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের জনৈক কর্মকর্তা দেবপ্রতিম হাওলাদার। তিনি বলেন,বারোআড়িয়া বাজারের স’মিল নামক স্থানে বস্তা নদীতে ফেলার সময় আমি ঘটনার সত্যতা পাই এবং তাৎক্ষণিক দুটি নৌকায় থাকা ২২০ বস্তা জিও ব্যাগ বাজেয়াপ্ত করি। এবং খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারি বাকি বস্তা গুলোর সেলাই টেম্পার গুণগত মান নষ্ট হয়ে গেছে। কি কারনে সেলাই টেম্পার নষ্ট হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,বস্তা সেলাই দেওয়ার ১০ থেকে ১৫ দিন রোদে থাকলে তার মান ভালো থাকেনা। তাই বাকি সব বস্তা দ্বিতীয়বার সেলাই করার জন্য বলা হয়েছে। গতকাল সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বস্তায় সেলাই দেওয়া ক্ষেত্রেও চলছে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি। মাঝে মধ্যে বস্তা সেলাই দিচ্ছেনা। কোন কোন বস্তার সেলাই খুলে গেছে। সঠিক ভাবে সেলাই পড়ছেনা।

এবিষয় উক্ত সেলাই দেওয়া লোকজনদের নিকট জানতে চাইলে তারা বলে,আমাদের এইভাবে সেলাই দেওয়ার কথা আছে। সববস্তা সেলাই দেওয়া হচ্ছে। কোন বস্তা সেলাই বাকি পড়ছেনা। অন্যদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারি প্রকৌশলী (এসও) মোঃ হাসনাত হোসেন বলেন, কাজে কোন অনিয়ম হলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব‍্যবস্থা নেয়া হবে।

বারোআড়িয়া নদীভাঙ্গন রোধে কোটি টাকার কাজ হচ্ছে এখানে। কিন্তু কাজের নেই কোন সিডিউল এর সাইনবোর্ড। সেলাই দেওয়া বস্তা স্থানীয় জনতা দেখে নানাবিধ সমলোচন করেন। ইউপি মেম্বার পদপ্রার্থী জহুর খা এই অনিয়ম দূর্নীতির তীব্র প্রতিবাদ জানায় এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ শাস্তির জোর দাবি করেন। বাজারের লাইলি, সালমা খাতুন, আকবর গাজীসহ একাধিক প্রতাক্ষদর্শীরা জানায়, স’মিল এর সামনে নৌকায় করে বালু ভর্তি বস্তা ফেলার সময় দেখা যায় ব‍্যাপক অনিয়ম দূর্নীতি। বস্তা ফেটে পানিতে বালু পড়ছে। খালি বস্তা নদীতে ভেসে যাচ্ছে। পরে স্থানীয় জনতার প্রতিবাদে বস্তা ফেলা বন্ধ করে দেয়া হয়। পরে উর্ধ্বতন কতৃপক্ষ এসে বিষয়টি দেখবাল করেন। এলাকাবাসি জরুরি ভিত্তিতে এই দূর্নীতিবাজ ঠিকাদার প্রতিষ্টানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব‍্যবস্থা গ্রহনের জোর দাবি জানান।

বটিয়াঘাটা খুলনা প্রতিনিধি।