patrika71 Logo
ঢাকাশুক্রবার , ৯ জুলাই ২০২১
  1. অনুষ্ঠান
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আন্দোলন
  7. আবহাওয়া
  8. ইসলাম
  9. কবিতা
  10. করোনাভাইরাস
  11. কৃষি
  12. খেলাধুলা
  13. চাকরী
  14. জাতীয়
  15. টেকনোলজি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মামুনের নেতৃত্বে চলছে অপহরণ বানিজ্য

পত্রিকা একাত্তর ডেক্স
জুলাই ৯, ২০২১ ১০:১৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

কক্সবাজারের টেকনাফে মামুন উদ্দীনের নেতৃত্বে সক্রিয় একটি অপহরণকারী চক্র। চক্রটিতে স্থানীয় ও রোহিঙ্গা মিলিয়ে রয়েছে অন্তত অর্ধ ডজন সন্ত্রাসী। অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করা এখন মামুনের পেশায় পরিণত হয়েছে। অপহরণের পর মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে আসার পর বেড়িয়ে এসেছে উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা পশ্চিম পাড়ার মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে মামুন উদ্দীনের অন্ধকার জগতের গল্প।

জানাযায়, মামুনের সাথে উখিয়া উপজেলার পালংখালী জামতলী ই/১১ রোহিঙ্গা শিবিরের রোহিঙ্গা আব্দুল হাদীর ছেলে তারেকের সাথে বিগত দুই বছর আগে থেকে লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে থাকাকালীন বন্ধুত্বের সম্পর্ক হয়। সেই সুত্রে গত ৬ জুলাই দুপুরে দাওয়াত করে তাকে বাড়িতে ডেকে এনে অপহরণকারী চক্রের হাতে তুলে দেয়।

অপহরণকারীরা তারেকের ব্যবহৃত নাম্বার থেকে তারেকের পরিবারের কাছে ফোনে ১৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে। ২৪ ঘন্টার মধ্যে টাকা দিতে না পারলে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। বিষয়টি জানার পর তারেকের পরিবার মামুনের মুটোফোনে তারেকের খোঁজ নিলে কয়েকজন পাওনাদার মামুনের হাত থেকে তারেককে নিয়ে গেছে বলে জানায়।

পরের দিন (৬ জুলাই) অপহরণকারীরা ০১৮৭৭৪৮১০৭৪ নাম্বার সহ আরো দুইটি নাম্বার পাঠিয়ে ৫০ হাজার টাকা দাবী করে। তারেকের পরিবার ওই নাম্বার গুলোতে ৫০ হাজার টাকা পাঠালে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাকেরকে মুক্তি দেয়।

অপহারণকারীদের কবল থেকে ফিরে এসে তারেক ‘বার্তা বাজার’কে জানান, মামুনের নেতৃত্ব লেদা নুরালী পাড়ার সাদেক ও পশ্চিম লেদার গফুরের ছেলে রুবেল মিলে অস্ত্রের মুখে তাকে লেদা পশ্চিম পাড়া একাকায় একটি কুঁড়েঘরে নিয়ে আটকিয়ে রাখে। ওই ঘরটিতে দুই জন মাঝবয়সী দম্পতি বসবাস করে। টাকা দিতে দেরী হলে ফোনে মামুনের নির্দেশে তাকে বেদম প্রহার করে।

এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, ইতিপূর্বে মামুন আরেক জনকে ধরে নিয়ে গিয়ে লেদা লবণের মাঠ এলাকায় একটি ক্লাব ঘরে আটকিয়ে রাখে। পরে মাঠের মালিকরা বিষয়টি জানতে পারলে রাতে তাকে অন্যত্র নিয়ে গুম করে রাখে। ঘটনাটি নিয়েও এলাকায় বেশ উত্তেজনা সৃষ্টি হয়ে ছিলো।

নাম প্রকাশনা করার শর্তে স্থানীয় এক ব্যক্তি জানায়, মামুনের নেতৃত্বে সালমান শাহ বাহিনীর যোগসাজসে রোহিঙ্গা ডাকাতদের সাথে আতাত করে লেদা টাওয়ার এলাকার আনিছ নামের এক রোহিঙ্গা দোকানদারের ৩০ হাজার ইয়াবার চালান লুটের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানাগেছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে মামুন উদ্দীন ‘বার্তা বাজার’কে প্রথমে আস্বীকার করে। পরে কথার প্রসঙ্গে স্বীকার করে বলেন- তারেক বেড়াতে এসেছিলো সঠিক। তবে মামুনের কাছ থেকে কয়েকজন পাওনাদার তারেককে উঠিয়ে নিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন। ইয়াবা লুটের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ফোন কেটেদেন। এর পরে চেষ্টা করেও ফোনে তাকে পাওয়া যায়নি।

হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী জানান, মামুনের ব্যাপারে ইতিপূর্বেও বিভিন্ন অভিযোগ শোনা গেছে। যেভাবে অপহরণ বাড়ছে গোয়েন্দা নজড়দারী বাড়ানো দরকার।

১৬ এপিবিএন এর অধিনায়ক পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম বার্তা বাজারকে বলেন- বিষয়টি ইতিপূর্বে অবগত হয়েছি। তার ব্যাপারে বিস্তারিত অনুসন্ধান চলছে। সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান এসব বিষয়ে তিনি কিছুই অবগত নন বলে জানিয়েছেন।

মোস্তাক আহমদ : টেকনাফ-