ট্রেনের ওয়াশরুম ব্যবহারে সংক্রমণ এড়াতে সাতটি সতর্কতা
হাত ধোয়ায় অন্তত ২০ সেকেন্ড সময় দেওয়া এবং অন্তত ৬০ শতাংশ অ্যালকোহলযুক্ত স্যানিটাইজ়ারের কথা বলা হয়েছে।
ট্রাভেল ডেস্ক · ঢাকা
প্রকাশ:
দীর্ঘ ট্রেনসফরে ওয়াশরুম ব্যবহার নিয়ে অনেকের মধ্যেই অস্বস্তি কাজ করে। একই ওয়াশরুম বহু যাত্রী ব্যবহার করেন। নিয়মিত পরিষ্কার না হলে কিংবা পর্যাপ্ত পানি না থাকলে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। এই আশঙ্কায় অনেকে ট্রেনে ওঠার পর পানি খাওয়া কমিয়ে দেন, প্রস্রাবের বেগ হলেও ওয়াশরুমে যেতে চান না। কিন্তু এই অভ্যাস শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
পর্যাপ্ত পানি না খেলে শরীরে পানির ঘাটতি দেখা দিতে পারে। প্রস্রাব দীর্ঘক্ষণ চেপে রাখলেও অস্বস্তি বাড়ে। তাই সংক্রমণের ভয়ে পানি খাওয়া কমানো বা ওয়াশরুমে যাওয়া এড়িয়ে চলা ঠিক নয়। বরং কয়েকটি সহজ স্বাস্থ্যবিধি মানলে ট্রেনসফরে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা সহজ হয়।
১. সঙ্গে সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ রাখা: ব্যাগে ছোট সাবান, সাবান-কাগজ বা ভ্রমণের উপযোগী হ্যান্ডওয়াশ রাখা যায়। ওয়াশরুম ব্যবহারের পর পরিষ্কার পানি ও সাবান দিয়ে অন্তত ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধুতে হবে। আঙুলের ফাঁক, নখের চারপাশ এবং হাতের পেছনের অংশও পরিষ্কার করা দরকার। হাত ধোয়ার সুযোগ না থাকলে অন্তত ৬০ শতাংশ অ্যালকোহলযুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজ়ার ব্যবহার করা যায়। তবে হাত দৃশ্যত নোংরা হলে সাবান ও পানিই বেশি কার্যকর।
২. হাতল ও ছিটকিনি ধরায় সতর্কতা: ওয়াশরুমের দরজার হাতল, ছিটকিনি ও অন্যান্য স্পর্শযোগ্য জায়গায় জীবাণু থাকতে পারে। হাত ধোয়ার পর এগুলো ধরতে হলে টিস্যু ব্যবহার করা যায়। তবে শুধু এই সতর্কতায় সংক্রমণ ঠেকানোর নিশ্চয়তা মেলে না। ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে অপ্রয়োজনে মুখ, চোখ বা নাক স্পর্শ করা উচিত নয়।
৩. কমোড ব্যবহারের আগে দেখে নেওয়া: ব্যবহারের আগে কমোডের অবস্থা দেখে নেওয়া ভালো। নোংরা থাকলে সম্ভব হলে পরিষ্কার বিকল্প ওয়াশরুম ব্যবহার করা বা রেলকর্মীদের জানানো যায়। প্রয়োজনে নিজের সঙ্গে রাখা উপযোগী জীবাণুনাশক কাজে লাগানো যেতে পারে। তবে কমোডে জীবাণুনাশক স্প্রে করলেই সব জীবাণু দূর হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ব্যবহারের পর ফ্লাশ করে ওয়াশরুম পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করতে হবে।
বিজ্ঞাপন
৪. ঋতুস্রাবের সময় বাড়তি সতর্কতা: ঋতুস্রাবের সময় প্রয়োজনীয় সংখ্যক স্যানিটারি প্যাড বা ট্যাম্পন সঙ্গে রাখা দরকার। প্যাড বা ট্যাম্পন বদলানোর আগে ও পরে হাত পরিষ্কার করা জরুরি। ব্যবহৃত প্যাড বা ট্যাম্পন টিস্যু বা উপযুক্ত মোড়কে মুড়ে নির্দিষ্ট বর্জ্যপাত্রে ফেলতে হবে, কমোডে ফেলা যাবে না। এতে নিকাশি ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ট্যাম্পন ব্যবহারের ক্ষেত্রে পণ্যের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পরপর তা বদলাতে হয়।
৫. খাবারের আগে হাত পরিষ্কার: ট্রেনসফরে চা, নাশতা বা অন্য খাবার খাওয়ার আগে হাত ধুয়ে নেওয়া উচিত। সাবান ও পানি না থাকলে হ্যান্ড স্যানিটাইজ়ার ব্যবহার করা যায়। খাবার ও পানীয় ঢেকে রাখা এবং নিরাপদ পানীয় পান করাও দরকার।
৬. নখ কামড়ানো ও বারবার মুখে হাত দেওয়া এড়ানো: অপরিষ্কার হাতে চোখ, নাক বা মুখ স্পর্শ করলে জীবাণু শরীরে ঢুকতে পারে। তাই নখ কামড়ানো বা বারবার মুখে হাত দেওয়ার অভ্যাস এড়ানো উচিত। হাত পরিষ্কার না করে খাবার মুখে তোলাও ঠিক নয়।
৭. পানি খাওয়া না কমানো, প্রস্রাব চেপে না রাখা: ওয়াশরুমের অপরিচ্ছন্নতার ভয়ে জল খাওয়া কমানো ঠিক নয়। শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী জল পান করতে হবে এবং প্রস্রাবের বেগ হলে অযথা দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখা চলবে না। মূত্রনালির সংক্রমণ বা ইউটিআই সাধারণত ব্যাকটেরিয়া মূত্রনালিতে ঢোকার কারণে হয়। অপরিচ্ছন্ন শৌচালয় ব্যবহার করলেই যে সংক্রমণ হবে, তা নয়। পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করাও জরুরি।
বিজ্ঞাপন
প্রস্রাবের সময় জ্বালা, বারবার প্রস্রাবের বেগ, তলপেটে ব্যথা বা প্রস্রাবে রক্ত দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। জ্বর, কাঁপুনি বা পিঠের পাশে ব্যথা হলে দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন।