৬৫ হাজার টাকায় থাইল্যান্ড ভ্রমণ: ভারতের দুই কনটেন্ট ক্রিয়েটরের অভিজ্ঞতা
কে বালাজি ও নীথুর সফরে চিয়াং মাইয়ের মন্দির, ক্যাফে ও রাতের বাজারও ছিল।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ:
বন্ধুদের সঙ্গে বিদেশ ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও বিমানভাড়া, হোটেল ও খাওয়াদাওয়ার খরচের কথা ভেবে অনেকে পিছিয়ে যান। এমন ভ্রমণপ্রেমীদের তালিকায় থাকতে পারে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র থাইল্যান্ড। নীল সমুদ্র, দৃষ্টিনন্দন মন্দির, জমজমাট রাতের বাজার, অভিনব ক্যাফে আর রোমাঞ্চকর নানা অভিজ্ঞতার কারণে দেশটি পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয়।
বিজ্ঞাপন
সম্প্রতি ভারতের দুই কনটেন্ট ক্রিয়েটর কে বালাজি ও নীথু জানিয়েছেন, তাঁদের থাইল্যান্ড সফরে খরচ হয়েছে ৫০ হাজার ভারতীয় রুপি। বাংলাদেশি মুদ্রায় তা আনুমানিক ৬৫ হাজার টাকা। তাঁদের এই অভিজ্ঞতা ঘিরে স্বল্প বাজেটে বিদেশ ভ্রমণ নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
কে বালাজি ও নীথুর সফরে নানা ধরনের অভিজ্ঞতা ছিল। তাঁরা হস্তিশালা, অভিনব মন্দির, নান্দনিক ক্যাফে, রাতের বাজার এবং শান্ত গ্রামীণ পরিবেশ উপভোগ করেছেন। তাঁদের ঘোরার তালিকায় চিয়াং মাই শহরও ছিল। থাইল্যান্ডের ওয়াট রং সুয়া তেন মন্দির, যা ‘ব্লু টেম্পল’ নামে পরিচিত, পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয়। নীল রঙের সূক্ষ্ম কারুকাজ এবং বিশাল বুদ্ধমূর্তি মন্দিরের সৌন্দর্য বাড়িয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখা, থাই খাবার চেখে দেখা এবং প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটানোর সুযোগও আছে।
বাংলাদেশ থেকে যাওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখার কথা বলা হয়েছে। ১. বিমানভাড়া আগে যাচাই করা: থাইল্যান্ড ভ্রমণের বাজেটে বিমানভাড়া বড় অংশ জুড়ে থাকতে পারে। তাই সম্ভাব্য তারিখ ঠিক করে বিভিন্ন বিমান সংস্থার ভাড়া তুলনা করা ভালো। সম্ভব হলে কয়েক সপ্তাহ বা মাস আগে থেকে টিকিটের দাম পর্যবেক্ষণ করা যেতে পারে। কম ভাড়ার টিকিটে লাগেজ, খাবার ও আসন নির্বাচনের জন্য বাড়তি খরচ আছে কি না, তাও দেখে নিতে হবে।
২. ভিসা ও প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত রাখা: বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের থাইল্যান্ডে পর্যটনের জন্য যাওয়ার আগে প্রযোজ্য ভিসার নিয়ম, আবেদনপদ্ধতি, ফি ও প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করা জরুরি। থাই দূতাবাসের সরকারি ওয়েবসাইট থেকে সর্বশেষ নির্দেশনা দেখে আবেদন করতে হবে। পাসপোর্টের মেয়াদ, হোটেল বুকিং, ফিরতি টিকিট এবং আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণের মতো কাগজপত্রও প্রস্তুত রাখা দরকার।
বিজ্ঞাপন
৩. থাকার জায়গা বুঝেশুনে বাছা: শহরের একেবারে পর্যটনকেন্দ্রে না থেকে গণপরিবহণের সুবিধা আছে এমন এলাকায় হোটেল বা গেস্টহাউস খোঁজা যেতে পারে। বন্ধুদের সঙ্গে গেলে একই ঘরে থাকার সুযোগ থাকলে মাথাপিছু খরচ কমতে পারে। তবে বুকিংয়ের আগে অবস্থান, নিরাপত্তা, পর্যালোচনা এবং বাতিলের নিয়ম দেখে নেওয়া দরকার।
৪. চিয়াং মাইয়ের মতো গন্তব্য বিবেচনা করা: থাইল্যান্ড মানেই শুধু ব্যাংকক বা ফুকেট নয়। চিয়াং মাইয়ের মন্দির, ক্যাফে, স্থানীয় বাজার ও প্রাকৃতিক পরিবেশও ভ্রমণপ্রেমীদের টানে। তবে ঢাকা থেকে সেখানে যেতে বিমানসংযোগ ও যাত্রার মোট খরচ আগে যাচাই করতে হবে। ব্যাংককে পৌঁছে অন্য শহরে যাওয়ার খরচও বাজেটে ধরতে হবে।
৫. খাবার ও ঘোরাঘুরির খরচ নিয়ন্ত্রণ: প্রতিদিনের খাবার, স্থানীয় যাতায়াত, প্রবেশমূল্য ও কেনাকাটার জন্য আলাদা বাজেট রাখা ভালো। সব সময় দামি রেস্তোরাঁয় না খেয়ে পরিচ্ছন্ন ও জনপ্রিয় স্থানীয় খাবারের দোকান বেছে নেওয়া যায়। মন্দির বা আকর্ষণীয় স্থানে যাওয়ার আগে প্রবেশমূল্য ও খোলার সময় জেনে নিলে বাড়তি খরচ এড়ানো সহজ হয়।
৬. অ্যাডভেঞ্চার ও প্রাণী পর্যটনে সতর্কতা: থাইল্যান্ডে নানা অ্যাডভেঞ্চার কার্যক্রমের সুযোগ আছে। বুকিংয়ের আগে নিরাপত্তাব্যবস্থা, বিমা, প্রশিক্ষকের উপস্থিতি ও বাড়তি ফি যাচাই করা প্রয়োজন। হাতির অভয়ারণ্যে যেতে চাইলে প্রাণীদের কল্যাণকে গুরুত্ব দেয়, এমন প্রতিষ্ঠান বেছে নেওয়ার চেষ্টা করা উচিত।
বিজ্ঞাপন
৭. জরুরি খরচের জন্য টাকা রাখা: বিমানবিলম্ব, বাড়তি লাগেজ, অসুস্থতা বা হঠাৎ যাতায়াতের প্রয়োজন হতে পারে। তাই মূল বাজেটের বাইরে কিছু টাকা জরুরি খরচের জন্য আলাদা রাখা ভালো। বিদেশে ব্যবহারের জন্য ব্যাংক কার্ড, নগদ অর্থ এবং ভ্রমণবিমার প্রয়োজনীয়তাও আগে বিবেচনা করতে হবে।
কে বালাজি ও নীথুর অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, পরিকল্পনা করে ভ্রমণ করলে খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তবে তাঁদের প্রায় ৬৫ হাজার টাকার বাজেট বাংলাদেশ থেকে যাত্রা করা পর্যটকের ক্ষেত্রে কিছুটা বদলাতে পারে। বিমানভাড়া, ভিসা, হোটেল ও স্থানীয় যাতায়াতের খরচ হিসাব করে নিজের বাজেট তৈরি করা দরকার।