চীনের হাইস্পিড ট্রেনে ফার্স্ট ক্লাসের ভ্রমণ, গুয়াংঝৌ থেকে হংকং টিকিটের দাম ৯৩ অস্ট্রেলীয় ডলার
ব্যক্তিগত স্ক্রিন, ফুটরেস্ট, বিনামূল্যে স্ন্যাকস ও চটির অভিজ্ঞতা নজর কেড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ:
আরামদায়ক আসন, ব্যক্তিগত স্ক্রিন, পায়ের বিশ্রামের ব্যবস্থা এবং সঙ্গে বিনামূল্যে স্ন্যাকস ও চটি। চীনের হাইস্পিড ট্রেনের ফার্স্ট ক্লাসে এমন ভ্রমণ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন এক নারী পর্যটক। গুয়াংঝৌ থেকে হংকং যাওয়ার পথে তাঁর এই অভিজ্ঞতার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজর কেড়েছে।
বিজ্ঞাপন
ভিডিওতে দেখা যায়, স্যুটকেস হাতে রেলস্টেশনের ভেতর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন ওই পর্যটক। এরপর ট্রেনে উঠে তিনি ফার্স্ট ক্লাসের কেবিন দেখান। সাধারণ আসনের তুলনায় এখানে যাত্রীদের জন্য ব্যক্তিগত পরিসর বেশি, পরিবেশও আরামদায়ক।
কেবিনের অন্দরসজ্জায় আছে ক্রিম রঙের প্রশস্ত আসন ও আধুনিক নকশা। আসনের পাশেই লাগেজ রাখা যায়। ফলে যাত্রাপথে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র হাতের কাছে রাখা সম্ভব।
প্রতিটি আসনের সঙ্গে আছে ব্যক্তিগত স্ক্রিন। আসনের পাশের কনসোলের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ব্যবহার করে নিজের পছন্দমতো আসনের অবস্থানও বদলানো যায়। এর সঙ্গে আছে পায়ের বিশ্রামের জন্য ফুটরেস্ট। কেবিনের আলো ও আলাদা বসার ব্যবস্থা যাত্রাকে আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় করেছে।
আসনের পাশাপাশি যাত্রীদের ব্যবহারের পর ফেলে দেওয়ার উপযোগী একজোড়া চটি এবং নানা ধরনের প্যাকেটজাত স্ন্যাকস দেওয়া হয়। ফলে আসন ছেড়ে না উঠেই তাঁরা হালকা খাবার খেতে পারেন।
বিজ্ঞাপন
ভিডিওর শেষ দিকে দেখা যায়, সেই চটি পরে প্রশস্ত আসনে হেলান দিয়ে বিশ্রাম নিচ্ছেন ওই পর্যটক। তাঁর এই অভিজ্ঞতা থেকে বোঝা যায়, ট্রেনযাত্রায় আরাম ও ব্যক্তিগত পরিসরকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ভিডিওর ক্যাপশনে ওই নারী পর্যটক জানিয়েছেন, গুয়াংঝৌ থেকে হংকং পর্যন্ত একমুখী ফার্স্ট ক্লাসের টিকিটের জন্য তাঁর খরচ হয়েছে ৯৩ অস্ট্রেলীয় ডলার। তাঁর হিসাবে বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ৭৯৯৯ টাকা।
ভিডিও প্রকাশের পর ট্রেনের সুযোগ-সুবিধা ও ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে অনেকে মন্তব্য করেছেন। এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “এটা তো দারুণ! আমরা গুয়াংঝৌ থেকে শেনঝেন পর্যন্ত বিজনেস ক্লাসে যাত্রা করেছিলাম। পুরো কেবিনে আমরা ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। অস্ট্রেলিয়ায় এমন ভ্রমণের অভিজ্ঞতা আমাদের কখনও হবে না।”
অন্য এক ব্যবহারকারী অবশ্য জানিয়েছেন, সব রুটে একই ধরনের সুবিধা মেলে না। তাঁর কথায়, “আমরা গুয়াংঝৌ থেকে হংকং গিয়েছিলাম। সেই ট্রেনটি ছিল অনেক পুরোনো এবং সেখানে শুধু পুরোনো ধরনের ফার্স্ট ক্লাসের আসন ছিল।” আরেকজন সংক্ষেপে লিখেছেন, “এটা সত্যিই খুব ভালো।”
বিজ্ঞাপন
চীনের হাইস্পিড ট্রেনের এই অভিজ্ঞতা আবারও দেখিয়েছে, যাতায়াতে আরাম ও বাড়তি সুযোগ-সুবিধা অনেক যাত্রীর কাছেই গুরুত্বপূর্ণ। তবে ট্রেনের ধরন, রুট ও টিকিটের শ্রেণিভেদে অভিজ্ঞতা এবং সুযোগ-সুবিধায় পার্থক্য থাকতে পারে।