patrika71 Logo
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৫ আগস্ট ২০২১
  1. অনুষ্ঠান
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আন্দোলন
  7. আবহাওয়া
  8. ইভেন্ট
  9. ইসলাম
  10. কবিতা
  11. করোনাভাইরাস
  12. কৃষি
  13. খেলাধুলা
  14. চাকরী
  15. জাতীয়
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ফেসবুকের বিকল্প সরকারি যোগাযোগ প্ল্যাটফর্ম কিন্তু কেন?

পত্রিকা একাত্তর ডেক্স
আগস্ট ৫, ২০২১ ১:৩৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ad

বাংলাদেশে সরকারি ভাবে ফেসবুক এর বিকল্প সোশ্যাল মিডিয়া যোগাযোগ প্ল্যাটফর্ম তৈরি হচ্ছে। গত কয়েকদিন আগে ‘উই ফোরামের একটি ইভেন্টে আমাদের আইসিটি টেক মিনিস্টার জুনায়েদ আহমেদ পলক নিজেই জানিয়েছেন যে যোগাযোগ নামের একটি প্লাটফর্ম অলরেডি ডেভলপ হচ্ছে। যেটা একটি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম।

এবং উনি প্রকাশ করেছেন, যোগাযোগ প্ল্যাটফর্মের একটি মার্কেটপ্লেস থাকবে যেখানে ফেসবুকের মতোই আমাদের দেশের মার্কেটাররা বিজনেস করতে পারবে। উনি যেহেতু ই-কমার্স লিমিটেড একটি ইভেন্টে গিয়েছিলেন সে কারণে হয়তো বা উনি ওই মার্কেটপ্লেসের পার্ট টাকে একটু হাইলাইট করেছেন। আত্পর একটি সোশ্যাল মিডিয়া যোগাযোগ প্ল্যাটফর্ম হবে, যেমন ফেইসবুক।

অনেকের প্রশ্ন হতে পারে, ফেসবুকের মত এত জনপ্রিয় একটি সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম থাকতে আমরা কেন নিজস্ব আরেকটি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম তৈরি করছি! যদিও এখানে অনেকগুলো উত্তর রয়েছে, কিছু রাজনৈতিক সমস্যা, আবার জেনারেল ইউজার দের কিছু সমস্যা। যেমন জেনারেল ইউজারদের সমস্যাগুলো-  আপনারা জানেন যে ফেসবুক আমাদের যে ডেটা গুলো নিয়ে যায় সেগুলো কিন্তু তারা তাদের বিজনেস কাজে ব্যবহার করে। আমরা জানি কিছুদিন আগে আমাদের কিছু ডাটা লিগ হয়ে ছিল, এটা কিন্তু একটা সমস্যা। মোটকথা ডাটা নিয়ে তারা কিন্তু অনেক নড়াচড়া করছে।

অনেকেই এ বিষয়টিতে খুশি নয়, ফেইসবুক কিন্তু আমাদের ডেটার প্রাইভেসি নিয়ে একদমই কনসার্ট না বেশিরভাগ সময় আমরা দেখে থাকি। কিছুদিন আগে হোয়াটসএ্যাপ ও তারা একটা প্রাইভেসি পলিসি এর আপডেট দিয়েছিলেন এবং বলেছেন সেটা একসেপ্ট না করলে আপনি হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করতে পারবেন না। এই টাইপের এক ধরনের বাধ্যতামূলক পলিসি ফেসবুক করে থাকে একদমই জেনারেল ইউজার যারা আছে তারা এই গুলো বোঝে  তারা একদমই এগুলো অপছন্দ করেন।

এই একটা কারনে প্রত্যেকটা দেশ থেকে ফেসবুককে আস্তে আস্তে বয়কট করা শুরু করেছে, এবং বাংলাদেশে হয়তোবা সেই লক্ষ্যেই যোগাযোগ প্ল্যাটফর্ম লঞ্চ করতে যাচ্ছে। এখানে রাজনৈতিক একটা সমস্যা রয়েছে সেটা হচ্ছে, ফেইসবুক এর কাছে বাংলাদেশ সরকার যদি কোনো তথ্য চাই তা বেশিরভাগ সময় ফেইসবুক সেই তথ্য দিতে চায় না অথবা দিতে তারা অস্বীকার করে নেয়। অবশ্য এখানে ফেসবুকের কাছেও বিভিন্ন লজিক রয়েছে, যেমন ফেসবুকে কোন ইউজার রেজিস্ট্রেশন করলে তখন কিন্তু সেই ইউজারকে ফেসবুক তাদের প্রাইভেসি পলিসি দেখায় এবং সেই প্রাইভেসি পলিসি মধ্যে উল্লেখিত রয়েছে যে তারা তাদের ইউজারদের কোন তথ্য থার্ড পার্টি কারো কাছে ডিসক্লস করবে না।

সরকারি যোগাযোগ প্ল্যাটফর্ম কেন?

এই যে তাদের প্রাইভেসি পলিসি রয়েছে তারা এই গুলোর ভিত্তিতে কাউকে তাদের ডাটা কিংবা ইনফর্মেশন দেয় না অথবা কারো সাথে শেয়ার করে না। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে কিছু নীতি নির্ধারণের ব্যাপার রয়েছে কিছু আইনি প্রক্রিয়া আছে। যখন কোন মানুষ কোন ক্রাইম করে তাকে ধরা অথবা সে বিষয়টি নিয়ে স্টাডি করার জন্য এ ডাটা গুলো অনেক সময় সরকারের দরকার হয় যেগুলো চাইলে ফেসবুক অনেক সময় দিতে অস্বীকার করে। এ কারণে আমাদের দেশের অনেক রাজনীতিবিদরা বলে থাকেন যে ফেসবুক খুবই ঘারতারা একটা কোম্পানি। মূলত তারা ডাটা শেয়ার করতে চায় না।

মূলত এজন্যই বাংলাদেশে আরও একটা নতুন সোসাল প্লাটফর্ম তৈরি হতে যাচ্ছে “যোগাযোগ প্ল্যাটফর্ম” । অবশ্য এটা কিন্তু নতুন না, আমরা যদি চায়নার এক্সাম্পল দেই তাহলে চায়না কিন্তু একদম নিজেরা স্বাবলম্বী, তারা প্রত্যেকটা সার্ভিস প্রত্যেকটা প্রোডাক্ট নিজেরা ব্যবহার করে বাহিরের দেশের কোন কিছু ব্যবহার করে না। তাদের নিজস্ব ফেসবুকের আল্টার্ণতিভ আছে, তাদের দেশে প্রত্যেকটা জিনিসের জন্য ব্যবহারযোগ্য প্রোডাক্ট রয়েছে। সুতরাং তাদের ডাটা বাইরে শেয়ার হচ্ছে না অথচ বাইরের ডাটা কিন্তু তারা অনেক সময় নিজেদের ব্যবহারের জন্য চুরি করে নিয়ে আসছে এইরকম টা অনেক সময় হয়ে থাকে।

চায়না যতটা স্বাবলম্বী আমরা শুরুতেই হয়তো অতটা হতে পারব না নিজেদের যোগাযোগ প্লাটফর্ম দিয়ে, কিন্তু আমরাও চাই যেন দেশে কোন একটা ভালো এরকম যোগাযোগ প্ল্যাটফর্ম ডেভলপ হোক। তবে এখানে কিছুটা কনফিউশন থেকেই যায়, ফেইসবুক যতগুলো অপশন মানুষকে দিতে পারে, যত বেশি ইউজার ফ্রেন্ডলি, যত বেশি মানুষের কাছে অ্যাকসেপটেড, নতুন একটা প্লাটফর্ম শুরু করা মাত্রই এতটা অ্যাকসেপটেড কিন্তু মোটেই হবেনা। এতে কিন্তু সময় লাগবে। আরেকটা বিষয় হচ্ছে- এ ধরনের প্ল্যাটফর্মের যেখানে যত বেশি ইউজার সেখানে কিন্তু আরো বেশি ইউজার আসে। ইউজার যেখানে কম সেখানে কিন্তু ইউজার যায়না।

আরো পড়ুনঃ গুগল আপনার কাছে যা চায়।

হোয়াটসঅ্যাপে যে রুলস দিয়েছিল কিছুদিন আগে প্রাইভেসি নিয়ে সেখানে আমরা দেখেছি মানুষ বিভিন্নভাবে বিভিন্ন পোস্ট করেছেন বিভিন্ন মতামত শেয়ার করেছেন যে আমরা আর হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করব না নানান ধরনের হোয়াটসঅ্যাপ এর বিকল্প অলরেডি বের হয়ে গিয়েছে সব অ্যাপে মানুষজন ট্রান্সফার হচ্ছে। কিন্তু কয়েকদিন পরে আবারও সবাই হোয়াটসঅ্যাপে মুভ করেছে। কারণ হোয়াটসঅ্যাপে ইউজার বেশি সুতরাং আবারো ব্যবহারের জন্য হোয়াটসঅ্যাপ বেছে নিয়েছে।

এরকম ভাবেই আমাদের যোগাযোগ প্ল্যাটফর্ম আসার পর এই ধারণা করছি যে সবাই হঠাৎ করে একটা ঝাঁপ দিয়ে যোগাযোগ প্লাটফর্মে চলে আসবে, এখানে সাইন আপ করবে, লগইন করবে, কিছুদিন ব্যবহার করবে এরপর যখন দেখবে তার পরিচিত বন্ধুবান্ধব গুলো এখানে পাচ্ছে না কিংবা এই প্লাটফর্মে ফেসবুকের মত অত ভালো ফিচার ইউজার নেই ছবি আপলোড করলে লাইক আসছেনা, কমেন্ট আসছে না, শেয়ার আসছে না, তখন ঠিকই সেই ইউজার গুলো আবার ফেসবুকে ব্যাক করবে। এখন এই বিষয়টা শুধুমাত্র সরকার একাই চাইলে যে সম্ভব তা কিন্তু মোটেও নয়, এটা যদি আমরা সবাই চাই যে হ্যাঁ আমরা ফেসবুক বয়কট করে আমাদের নিজস্ব যোগাযোগ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করব, তাহলেই কেবল মাত্র এটা সম্ভব।

আবার অনেকেই বলে থাকে ফেসবুকের কাছে ডেটা দিলে সেটা দিয়ে তো ফেসবুক বিজনেস কাজে ব্যবহার করে কিন্তু সেটা সরকারের কাছে টান্সফার করলে সেটা দিয়ে সরকার আবার আমাদের ধরার জন্য বা অন্য কোন কাজে ব্যবহার করবে! ব্যাপারটা কিন্তু আসলে মোটেও এরকম নয়। মনে রাখবেন গভমেন্ট কিন্তু সবাইকে স্পাই করে না। শুধুমাত্র ক্রাইম করা ব্যক্তিকে স্পাই করবে, ক্রাইম করা ব্যক্তি কে ধরবে এটা স্বাভাবিক।