পাকিস্তানিদের ভারতকে বধ করার স্মৃতি, ১০ উইকেটে হারালো ইংল্যান্ডকে

গত ২০২১ সালে দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত হওয়া আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতকে ১০ উইকেটে হারিয়ে এক অনন্য ইতিহাস গড়েছিলো পাকিস্তান। দীর্ঘদিন পর পাকিস্তানের হাতে বধ হয়েছিলো ভারত। সেই একই স্মৃতি ফের এলো করাচিতে, দীর্ঘ ১৭ বছর পর পাকিস্তানের মাটিতে খেলতে এসেছে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল।

১০ উইকেটের এক বিশাল জয় পেলেন বাবর- রিজওয়ানরা। প্রায় দীর্ঘদিন পর ছন্দে ফিরলো পাকিস্তানি এই দুই ওপেনার। বাবরের সেঞ্চুরিতে আর রিজওয়ানের হাফ সেঞ্চুরিতে উড়ে গেলো ব্রিটিশদের বোলিং। শেষ অবধি কোনো উইকেট না হারিয়ে ১৯৯ রানে লক্ষ্যে জয় ছিনিয়ে নেয় পাকিস্তানিরা।

করাচির স্টেডিয়ামে টসে জিতে প্রথমেই ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় ইংল্যান্ড। শুরুটা ভালোই করেছিলো ইংলিশরা। পাওয়ার-প্লে তে ভালোই রান সংগ্রহ করেছিলেন তারা। কিন্তু পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে শাহনওয়াজ দাহানির বলে আউট হয়ে যান হেলসে।

ফের রান শূন্য হয়ে সাজঘরে ফেরেন দাউইদ মালান। তৃতীয় উইকেটে স্টলের সাথে জুটি আটেন বেন ডাকেট। বেশ পাকাপোক্ত হওয়ার সময়ই ৩০ রান করে আউট হয়ে যান হারিস রউফের দুর্দান্ত বলে।

চাপে পড়ে যায় ইংল্যান্ড। ধীরে ধীরে দলকে তুলে আনেন অধিনায়ক মইন আলী। অন্যবদ্য মারকুটে খেলা খেলেন তিনি। সাথে থাকেন হ্যারি ব্রুক। অসাধারণ ব্যাটিং দেখিয়ে মাত্র ২৩ বলে ৫৫ রান তুলে নেন মইন আলী। যেন পাকিস্তানি বোলাররা তার কাছে ছেলেমানুষ।

ইনিংসের শেষ দু’বলে দুই ছক্কা হাওয়ায় ভাসিয়ে ১৯৯ রানের লক্ষ্য দাড় করাম পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানদের সামনে৷ মনে হচ্ছিলো আজকে পাকিস্তানিদের হারাতে কোনো চাপই নিতে হবেনা মইনদের। কিন্তু কি ভাগ্য? টিকটে পারলো না পাকিস্তানি দুই ওপেনারের কাছেই। শুরু থেকেই মারকুটে খেলা খেলেন বাবর আজম আর মোহাম্মদ রিজওয়ান। পাওয়ার প্লে কে কাজে লাগিয়ে তুলে নেন ৫৯ রান। এবং প্রতি ওভারেই খেলছিলেন বিগ বিগ শট।

এক পর্যায়ে মোহাম্মদ রিজওয়ানকে আউট করার সুযোগ পেলেও ক্যাচ ফেলে দিয়ে হারায় সেই সুযোগ। সুযোগ পেয়ে আরও হার্ড হিটিং শুরু করে রিজওয়ান। শেষ মেষ অর্ধশত রান করে অপরাজিত থাকেন রিজওয়ান। গেল এশিয়া কাপটা ভালো যায়নি বাবরের, সেই লক্ষ্যে অনেকদিন পর ফর্মে ফিরেছে তিনি।

তার মাঝেই রিজওয়ানকে আউট করার সুযোগ এসেছিল। কিন্তু তাঁর ক্যাচ ফস্কান ইংল্যান্ডের সল্ট। তার সুবিধা নেন রিজওয়ান। আরও হাত খুলে খেলা শুরু করেন তিনি। অর্ধশতরান করেন তিনি। পিছিয়ে থাকেননি বাবরও। এশিয়া কাপে তাঁর ব্যাটে রান ছিল না। কিন্তু এই ম্যাচে নিজের পুরনো রূপে ফিরলেন পাক অধিনায়ক।

তিনিও অর্ধশতরান করেন। দু’জনের মধ্যে শতরানের জুটি হয়। সম্ভবত শিশির জমাট ঘাটের সুবর্ণ সুযোগ টি ছিনিয়ে নেয় পাকিস্তান। মাত্র ৬১ রানে শতরান তুলপ নেন বাবর আজম। দুর্দান্ত আত্মবিশ্বাসের জয় তুলে নেয় বাবর আজম আর রিজওয়ান।

পত্রিকাএকাত্তর / মাহমুদ রাফি

সম্পর্কিত নিউজ

Comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ নিউজ