কন্যাসন্তানকে অবহেলা নয়, বলছে কোরআনের শিক্ষা
সুরা শুরার ৪৯ ও ৫০ নম্বর আয়াতে সন্তান দেওয়ার ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর বলে উল্লেখ করা হয়েছে
ধর্ম ডেস্ক · ঢাকা
প্রকাশ:
মা-বাবার কাছে ছেলে ও মেয়ে উভয় সন্তানই মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে অমূল্য উপহার। সন্তান ছেলে হবে না মেয়ে, তা ঠিক করার ক্ষমতা মানুষের নেই। নিজের ইচ্ছা ও প্রজ্ঞা অনুযায়ী মহান আল্লাহই সন্তান দান করেন। তিনি বলেন, ‘তিনি যাকে ইচ্ছা কন্যাসন্তান দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা পুত্রসন্তান দান করেন।’ (সুরা শুরা ৪৯)
বিজ্ঞাপন
পরের আয়াতে মহান আল্লাহ জানান, ‘তিনি যাকে ইচ্ছা পুত্র ও কন্যা উভয়ই দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করে দেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান।’ (সুরা শুরা ৫০)
কোরআনের এই বাণী থেকে সন্তান নিয়ে সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি পাওয়া যায়। ছেলে হলে খুশি হওয়া আর মেয়ে হলে মন খারাপ করা ইসলামের শিক্ষা নয়। কারও ইচ্ছা বা চেষ্টায় সন্তানের লিঙ্গ ঠিক হয় না, এটি মহান আল্লাহর সিদ্ধান্ত। তাই তাঁর সিদ্ধান্তে খুশি থাকা এবং সব সন্তানকে সমান স্নেহ ও যত্ন দেওয়া মুমিনের কর্তব্য।
কন্যাসন্তানকে অবহেলার কোনো অনুমতি ইসলাম দেয়নি। উল্টো মেয়েদের ঠিকমতো লালন-পালন, শিক্ষা, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে বলেছে। জাহেলি যুগে মেয়ের জন্মকে অনেকেই লজ্জার বিষয় ভাবত। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাদের সেই মানসিকতার নিন্দা করেছেন।
সন্তানকে কেবল বংশের উত্তরসূরি ভাবলে হবে না। মা-বাবার দায়িত্ব তাকে সৎ, আদর্শবান ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে বড় করা। ছেলে-মেয়ে দুজনের জন্যই নৈতিক শিক্ষা, দ্বীনি জ্ঞান ও ভালো পরিবেশের ব্যবস্থা করতে হবে। দুজনের মধ্যে ভেদাভেদ না করে ভালোবাসা ও ন্যায়বিচার বজায় রাখতে হবে।
বিজ্ঞাপন
সন্তানের আসল মর্যাদা ছেলে বা মেয়ে হওয়ায় নয়, বরং তার চরিত্র, নৈতিকতা এবং আল্লাহর প্রতি আনুগত্যে। ছেলে হোক বা মেয়ে, প্রত্যেকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা এবং তাদের ভালো মানুষ করে গড়ে তোলা মা-বাবার অন্যতম দায়িত্ব।