গর্ভকালে নেক সন্তানের জন্য জাকারিয়া (আ.)-এর দোয়া পাঠের নির্দেশনা
কোরআনে বর্ণিত সুরা আলে ইমরানের ৩৮ নম্বর আয়াতের দোয়া মায়েরা গর্ভকালে নিয়মিত পড়তে পারেন
ধর্ম ডেস্ক · ঢাকা
প্রকাশ:
গর্ভধারণ একজন নারীর জীবনে যেমন পরম আনন্দের সময়, তেমনি বড় ধরনের মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তনেরও। নতুন জীবনের আগমন একদিকে অসীম আশার আলো দেখায়, অন্যদিকে নানা রকম হরমোনের প্রভাব ও শারীরিক ক্লান্তি হবু মায়ের মনে অজানা দুশ্চিন্তা ডেকে আনে। অনাগত সন্তানের স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ নিয়ে তীব্র উদ্বেগ অনেক সময় গর্ভবতী নারীকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বা অস্থির করে তোলে, যা এই যাত্রারই একটি স্বাভাবিক অংশ।
বিজ্ঞাপন
নিয়মিত চিকিৎসাসেবা ও সঠিক পরিচর্যার পাশাপাশি এই বিশেষ সময়ে আত্মিক প্রশান্তি ও মানসিক শক্তি ধরে রাখা অত্যন্ত জরুরি। আল্লাহর ওপর নির্ভরতা গর্ভবতী নারীকে সব ধরনের ভয় ও হতাশা থেকে সুরক্ষা দেয় এবং ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করতে পারে।
পবিত্র কোরআনে প্রবীণ জাকারিয়া (আ.)-এর সন্তান লাভের আকুল প্রার্থনা বর্ণিত হয়েছে। বৃদ্ধ বয়সে স্বাভাবিকভাবে সন্তান পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকলেও তিনি মহান আল্লাহর অসীম দয়া ও ক্ষমতা থেকে নিরাশ হননি। জাকারিয়া (আ.) যখন মরিয়মের কাছে আল্লাহর অলৌকিক নেয়ামত দেখতে পান, তখন একনিষ্ঠ চিত্তে এক পবিত্র সন্তানের জন্য এই আকুল দোয়া করেন। কোরআনে তাঁর সেই ঐতিহাসিক দোয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
উচ্চারণ: রাব্বি হাব লি মিল-লাদুনকা জুররিইয়্যাতান তাইয়্যিবাহ; ইন্নাকা সামিউদ দুআ।
অর্থ: “হে আমার প্রতিপালক! আমাকে তোমার পক্ষ থেকে এক পবিত্র সন্তান দান করো; নিশ্চয়ই তুমি প্রার্থনা শ্রবণকারী।” (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ৩৮)।
বিজ্ঞাপন
ইবনে কাসির এই আয়াতের তাফসিরে উল্লেখ করেছেন, জাকারিয়া (আ.) মরিয়মের কাছে আল্লাহর অলৌকিক নেয়ামত দেখার পর সন্তান চেয়ে এমন আকুল দোয়া করেন। (ইবনে কাসির, তাফসিরুল কুরআনিল আজিম, ২/৩৫, দারুল ফিকর, বৈরুত, ১৯৯৪)
নবী জাকারিয়ার এই প্রার্থনায় একটি বিশেষ শব্দবন্ধ ব্যবহৃত হয়েছে, ‘জুররিয়্যাতান তাইয়িবাহ’ বা ‘উত্তম সন্তান’। এই একটি শব্দবন্ধের মধ্যেই সন্তানের শারীরিক, মানসিক ও আত্মিক সুস্থতার সর্বাঙ্গীণ প্রার্থনা নিহিত।
গর্ভকালে মায়েরা চাইলে যেকোনো সময় এই দোয়া পাঠ করতে পারেন। এর মাধ্যমে তাঁরা শুধু সন্তানের শারীরিক আগমন চান না, বরং এমন এক সন্তানের জন্য আল্লাহর কাছে মিনতি জানান, যে হবে শারীরিক গঠনে সুস্থ, চরিত্রে পবিত্র, মানসিকতায় নমনীয় এবং সমাজের জন্য কল্যাণকর।
তাফসিরবিদ আবদুর রহমান সাদি লিখেছেন, ‘তাইয়্যিবাহ’ বা উত্তম সন্তান বলতে সেই সন্তানকে বোঝায়, যার বাহ্যিক আচরণ এবং ভেতরের চরিত্র-উভয়ই আল্লাহ ও মানুষের কাছে প্রিয় এবং প্রশংসনীয়। (আস-সাদি, তাইসিরুল কারিমির রহমান ফি তাফসিরি কালামিল মান্নান, ১/১৩০, মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ, বৈরুত, ২০০০)
বিজ্ঞাপন
গর্ভকালীন প্রাত্যহিক জীবনে এই দোয়ার নিয়মিত চর্চা মাকে মানসিকভাবে সমৃদ্ধ করে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের পাশাপাশি দোয়াটিকে তিনি দৈনন্দিন জীবনযাপনের অংশ করে নিতে পারেন। বিশেষ করে প্রতিদিনের পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পর, শারীরিক অসুস্থতা বা অস্বস্তির সময় এবং হাসপাতালে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার মুহূর্তে এটি বেশি বেশি পাঠ করা যেতে পারে।
মহানবী (সা.) বলেছেন, দোয়াই হলো ইবাদতের মূল। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৩৩৭০)