বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা ও ঝুঁকির কথা বললেন আইএমএফ প্রধান
ব্যাংককে সম্মেলনের সমাপনীতে ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেন, যুদ্ধের কারণে সবচেয়ে বেশি চাপে নিম্ন আয়ের দেশগুলো
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ:
বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকলেও মূল্যস্ফীতি, বাড়তে থাকা সরকারি ঋণ, যুদ্ধ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি। এই সম্ভাবনা ও ঝুঁকিকে সামনে রেখেই শেষ হয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বার্ষিক সম্মেলন। সংস্থাটির প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেছেন, যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে নিম্ন আয়ের দেশগুলো। এসব দেশকে সহায়তা করা আইএমএফের অন্যতম দায়িত্ব।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (১৭ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে সম্মেলনের সমাপনী পর্বে সৌদি আরবের অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-জাদানের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন জর্জিয়েভা। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত ব্যাংককে অনুষ্ঠিত আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের এই বার্ষিক সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের অর্থমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অংশ নেন। মূল্যস্ফীতি, বন্ডের সুদের হার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর (এআই) অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল আলোচনার প্রধান বিষয়।
জর্জিয়েভা জানান, বিশ্ব অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা, এআইয়ের সম্ভাবনা এবং এশিয়ার অর্থনৈতিক গতিশীলতা আশার সঞ্চার করেছে। তবে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ঋণের বোঝা, যুদ্ধ ও জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি অর্থনীতিতে এআইয়ের প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ আছে।
যুদ্ধের প্রেক্ষাপট নিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যায়। জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়। সংঘাতের কারণে তেল ও গ্যাস সরবরাহেও বিঘ্ন ঘটে। জর্জিয়েভার বক্তব্য, এর ফলে নিম্ন আয়ের দেশগুলোকে বাড়তি চাপ সামলাতে হচ্ছে।
উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর উচ্চ সরকারি ঋণ এবং বন্ডের সুদের হার বৃদ্ধি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইএমএফ। পুরো সপ্তাহের আলোচনায় সংস্থাটি সতর্ক করেছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার বাড়াতে পারে। তাতে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ঋণ নেওয়ার খরচ আরও বাড়ার আশঙ্কা আছে।
বিজ্ঞাপন
এআইয়ের দ্রুত বিস্তার ও এ খাতে বিনিয়োগ বাড়া নিয়ে জর্জিয়েভা বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে এই প্রযুক্তির বড় ভূমিকা আছে, সম্মেলনে অংশ নেওয়া দেশগুলো তা স্বীকার করেছে। তবে প্রবৃদ্ধির জন্য একটি নির্দিষ্ট খাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, প্রবৃদ্ধির কোনও একটি চালিকাশক্তির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়লে তা এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকার মতো।
সম্মেলনে উন্নত এআই মডেলের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে সক্ষম এআই এজেন্টের সঙ্গে সম্পর্কিত সাম্প্রতিক নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনা এ আলোচনাকে আরও জোরালো করেছে। ব্যাংককে এআই কোম্পানি, সরকার ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সহযোগিতার মনোভাব দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন জর্জিয়েভা। তাঁর কথায়, যথাসাধ্য চেষ্টা করা হলে তার সুফল মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়নে প্রতিফলিত হয়।
সম্মেলনের আলোচনায় দেখা যাচ্ছে, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির সুযোগ থাকলেও তা ধরে রাখতে একাধিক চ্যালেঞ্জ সামলাতে হবে। যুদ্ধের কারণে পণ্যমূল্য বৃদ্ধি, ঋণের চাপ এবং এআইয়ের দ্রুত বদলে যাওয়া প্রভাবের মোকাবিলায় দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।