patrika71 Logo
ঢাকাসোমবার , ৫ জুলাই ২০২১
  1. অনুষ্ঠান
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আন্দোলন
  7. আবহাওয়া
  8. ইসলাম
  9. কবিতা
  10. করোনাভাইরাস
  11. কৃষি
  12. খেলাধুলা
  13. চাকরী
  14. জাতীয়
  15. টেকনোলজি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মরুর বুকে বিমানবন্দর বানাচ্ছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

পত্রিকা একাত্তর ডেক্স
জুলাই ৫, ২০২১ ১:৪৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মরুর বুকে বিমানবন্দর বানাচ্ছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা। তাও আবার যুদ্ধবিধ্বস্ত ও জাতিগত সংঘাতে বিপর্যস্ত দেশ মালিতে! নির্মাণের দুরূহ কাজটি করছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শান্তিরক্ষীরা। শুধু তো বিমানবন্দর নয়, রাস্তাঘাটসহ নানাবিধ অবকাঠামো গড়তেও অবদান রাখছে বাংলার সেনারা।

আর বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এমন কর্মযজ্ঞের মাধ্যমে মালির জনগণের অন্তরে জায়গা করে নিয়েছে। তৈরি হয়েছে দুই দেশের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক। আর এই সম্পর্কের ভিত্তিতে যৌথভাবে বাণিজ্য সম্প্রসারণ সম্ভব মনে করছে মালিও।

এসব উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সে দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের যে দ্বিপাক্ষিক সুসম্পর্ক তৈরি হচ্ছে সেটিকে কাজে লাগিয়ে মালিতে সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগের পরামর্শ দিলেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।

কিদালে একদিকে যেমন সহিংসতার ঝুঁকি বেশি তেমনি তাপমাত্রাও অসহনীয়। সাহারা মরুভূমির এই অঞ্চলে মনোবল ধরে রাখতে বাংলার সেনারা এর নাম দিয়েছেন কিদাল প্যারাডাইস। সেই প্যারাডাইসে থাকা সুপারক্যাম্পের প্রায় পুরোটাই তৈরি করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্যানইঞ্জিনিয়ার কন্টিনজেন্ট। শুধু তো কিদাল নয়, মালির বহু স্থানে সড়কসহ নানা অবকাঠামো নির্মাণে অবদান আছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর।বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্যানইঞ্জিনিয়ার সেভেনের কন্টিনজেন্ট লেফটেন্যান্ট কর্নেল শহীদুল্লাহ আল মাসুম বলেন, যত ধরনের রাস্তা সংস্কারের কাজ আছে কিদাল সুপার ক্যাম্পে যত ধরনের মিনি অবকাঠামো আছে সব কিছুই আমরা তৈরি করেছি। এ ছাড়া হরাইজেন্টাল স্ট্রাকচারের অংশ হিসেবে রানওয়ের কাজ করছি।

কিদালে শান্তিরক্ষীদের জন্য হেলিকপ্টার ছাড়া রসদ পৌঁছানোর আরো কোনো উপায় নেই। আর তাই মরুর বুকে বিমান নামাতে এই মহাকর্মযজ্ঞ। বাংলাদেশের চেয়ে ৯ গুণ বড় দেশটিতে জনসংখ্যা ২ কোটিরও কম। মালিতে অব্যবহৃত জমির পরিমাণ এতই বেশি যে জমির মাঝে কোনো সীমানা নেই।একে তো সন্ত্রাসী দমন তার ওপর মরুর বৈরী পরিবেশ, এসবের পরও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এ দেশে তৈরি একের পর এক অবকাঠামো। আর এতে করে এ দেশের জনগণের সঙ্গে যে সম্পর্ক গড়ে উঠছে সেটিকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ এ দেশে বিনিয়োগ করতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ড. সাহাব এনাম খান বলেন, দ্বন্দ্ব বলেন আর যুদ্ধ বলেন, এসবের মূল কারণ হলো অনুন্নয়ন। এখানে আমার প্রচুর জায়গা দেখছি, যেখানে বাংলাদেশের বিনিয়োগ করার সুযোগ রয়েছে। এখানে জনশক্তি পাঠানো যেতে পারে। এ ছাড়া এখানে কৃষিতে একটা বড় ধরনের সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের জন্য।
পশ্চিম আফ্রিকার ৫৪টি দেশে বাণিজ্যের অপার সম্ভাবনা। মালির ব্যবসায়ীরাও মনে করেন এতে দু’দেশই উপকৃত হবে।

বাংলাদেশের অনারারি কনসুল ও মালির জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার মামাদু সিম্পারা বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক। আমরাও চাই যৌথভাবে কাজ করতে। মালি জনগণ বাংলাদেশের সেনাবাহিনীকে অন্তরে স্থান দিয়েছে। দুই এই সম্পর্ককে বাণিজ্য সম্প্রসারণে এগিয়ে নিয়ে যাবে আমি সেটা বিশ্বাস করি। এ জন্য যথেষ্ঠ কৌশল ও কর্মপন্থা নির্ধারণ করতে হবে।আফ্রিকার নিজার নদী মালির বিভিন্ন অঞ্চল দিয়ে বয়ে গেছে। নদীমাতৃক বাংলাদেশের মানুষ সেই সুযোগকেও কাজে লাগাতে পারে। তবে এ জন্য প্রয়োজন সরকারি-বেসরকারি গঠনমূলক উদ্যোগ।

ইফতেখার নাঈম তানভীর : মহেশখালী