patrika71
ঢাকাশনিবার - ২৪ ডিসেম্বর ২০২২
  1. অনুষ্ঠান
  2. অনুসন্ধানী
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আবহাওয়া
  7. ইসলাম
  8. কবিতা
  9. কৃষি
  10. ক্যাম্পাস
  11. খেলাধুলা
  12. জবস
  13. জাতীয়
  14. ট্যুরিজম
  15. প্রজন্ম
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২২তম জাতীয় সম্মেলন আজ

নিজস্ব প্রতিনিধি
ডিসেম্বর ২৪, ২০২২ ৮:৫৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

আজ ২৪ডিসেম্বর শনিবার প্রাচীনতম দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২২তম জাতীয় সম্মেলন ২০২২।

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা বিবেচনায় সাদামাটা সম্মেলনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে টানা মেয়াদে ক্ষমতাসীন দলটি। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাদামাটা সম্মেলনে চমক বা নতুনত্ব কী থাকছে— তা নিয়ে দলীয় ঘরানায় জল্পনা-কল্পনা জোরদার হচ্ছে।

‘উন্নয়ন অভিযাত্রায় দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের উন্নত, সমৃদ্ধ ও ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যয়ের সম্মেলনে দলের সভাপতি পদে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ১০ম বারের মতো ১১তমেও অপরিহার্য। সেটা মাথায় রেখেই জাতীয় সম্মেলনের সব প্রস্তুতি গুছিয়ে এনেছে দলটি।দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের জাতীয় সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক পদে ওবায়দুল কাদের তৃতীয় মেয়াদে হ্যাটট্রিক করছেন নাকি নতুন কেউ আসছেন তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। এই পদে নতুন কেউ এলে সেটি চমক হবে বলেই মনে করছেন দলটির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। সেইসঙ্গে আগামী সংসদ নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জিং হিসেবে মাথায় রেখে দলের সাংগঠনিক কাঠামোয় সম্পাদকমণ্ডলীতে গুরুত্বপূর্ণ রদবদল হতে যাচ্ছে— এমনটিই জানিয়েছেন দলটির নীতিনির্ধারকরা। বিশেষ করে দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে বড় ধরনের রদবদল হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তারা।

এদিকে, বিগত সময়ের মতো এবারও বঙ্গবন্ধু পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে ঘিরে নেতাকর্মীর মধ্যে চলছে নানা আলোচনা। এ নিয়ে দলটির নীতিনির্ধারণী নেতারা জানান, এ বিষয়ে যথাসময়ে যথার্থ সিদ্ধান্ত নেবেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে কয়েক যুগ ধরে নেতৃত্ব দিয়ে আজকের পথে নিয়ে এসেছেন। আগামীতেও তিনি এভাবেই দলকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। তাই যথাসময়েই তিনি পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের দলে আনার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন।

গত ২৮ অক্টোবর গণভবনে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ২২তম জাতীয় সম্মেলনের তারিখ চূড়ান্ত হয়। ২৪ ডিসেম্বর শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রায় সাড়ে আট হাজার কাউন্সিলর এবং তার দ্বিগুণ সমসংখ্যক ডেলিগেট ও অতিথি সম্মেলনে উপস্থিত হবেন। মূল মঞ্চের পাশে পতাকা স্ট্যান্ড করা হয়েছে। সেখানে কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সকল সাংগঠনিক ইউনিটের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে নিয়ে জাতীয় সঙ্গীতের তালে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। এ সময় শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করা হবে।

এর পর আধঘণ্টা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হবে। এর পর শোক প্রস্তাব উত্থাপন করবেন দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ূয়া। সাধারণ সম্পাদকের প্রতিবেদন উপস্থাপন করবেন ওবায়দুল কাদের। স্বাগত বক্তব্য দেবেন অভ্যর্থনা কমিটির আহ্বায়ক শেখ ফজলুল করিম সেলিম। শেখ হাসিনার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন শেষ হবে। পরে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন চত্বরে দ্বিতীয় অধিবেশনে দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন করা হবে।

বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের আওয়ামী লীগের সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন দূতাবাসপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে এবার বিদেশের কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ও কূটনৈতিকদের আমন্ত্রণ জানানো হবে না।

সম্মেলন সফল করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ১১টি সম্মেলন প্রস্তুতি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের নির্বাচনি প্রতীক নৌকার আদলে মঞ্চ তৈরি করেছে। তিন স্তরের মঞ্চের প্রথম সারিতে দলীয় প্রধানের সঙ্গে বসবেন দলের সিনিয়র নেতারা। দ্বিতীয় ও তৃতীয় সারিতে বসবেন অন্যরা। দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের নেতারাও মঞ্চে থাকবেন।

নভেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সম্মেলনের মধ্য দিয়ে সংগঠনগুলোর শীর্ষ পদে নতুন নেতৃত্ব এসেছে। সেজন্য ধারণা করা হচ্ছে, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদেও নতুন কেউ আসতে পারে?

সম্মেলনে দলের সাধারণ সম্পাদক পদে পরিবর্তন আসতে পারে কিনা?- এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমার জানা মতে দলে সেক্রেটারি হওয়ার মতে ১০ জন অভিজ্ঞ নেতা আছেন। কে হবেন সাধারণ সম্পাদক সেটা নেত্রীর ইচ্ছা এবং কাউন্সিলরদের মতামত। সবকিছুর প্রতিফলন ঘটবে সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে।

আজকের বিষয় নিয়ে কলাম লিখেছেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট গবেষক ও জাতীয় রোগী কল্যাণ সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা ডা.এম এম মাজেদ তার কলামে লিখেন… ১৯৪৯ থেকে ২০২২। ৭৩ বছরের পথপরিক্রমা।

আওয়ামী লীগ শুধু বয়সে প্রবীণ দল নয়, এই দলের রয়েছে একটি সংগ্রামী ঐতিহ্য। বঞ্চিত মানুষের প্রয়োজনে, মানুষের জন্য গঠিত এই দলের সঙ্গে বাংলাদেশের যত গৌরবের অর্জন সব একাকার হয়ে আছে। মানুষের জীবনে যেমন উত্থান-পতন আছে, তেমনি মানুষ নিয়ে গঠিত যে কোনো সংগঠনেরও আছে উত্থান-পতন। মানুষের যেমন সাফল্য-ব্যর্থতা আছে, তেমনি সাফল্য-ব্যর্থতা আছে দল বা সংগঠনেরও। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব তুলনাহীন, একমাত্র তাঁকেই বলা হয় হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি।

গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বঙ্গবন্ধু ছাড়াও আরো অনেক নেতাকর্মীর অবদান অবশ্যই আছে, অবদান আছে আওয়ামী লীগ ছাড়াও আরও দু-একটি দলের; কিন্তু সবাইকে নিয়ে আন্দোলন করেও সবার থেকে এগিয়ে গেছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রহমান। জেল-জুলুম আরো অনেকেই ভোগ করলেও শেখ মুজিবই মানুষের আস্থা-বিশ্বাসের প্রতীকে পরিণত হয়েছিলেন। তেমনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসে আওয়ামী লীগও তুলনাহীন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত দলটির ২১টি নিয়মিত জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে, সম্মেলনের মাধ্যমে গঠিত নেতৃত্ব দলটির প্রাণপ্রবাহ বজায় রেখেছে। নবীন ও প্রবীণের মিলিত উদ্যোগ আওয়ামী লীগকে সজীব রেখেছে।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সম্মেলনের ইতিহাস:

দেশের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত ২১ টি জাতীয় সম্মেলন আয়োজন করেছে। ইতোপূর্বে অনুষ্ঠিত ২১ টি সম্মেলনের মধ্যে পাকিস্তান আমলে আটটি আর স্বাধীন বাংলাদেশে ১৩ টি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়াও জাতীয় প্রয়োজনে দলটি বিভিন্ন সময়ে সাতটি বিশেষ সম্মেলন করেছে।

পাকিস্তান আমলে ১৯৪৯ সালের ২৩ ও ২৪ জুন পুরনো ঢাকার কেএস দাস লেনের রোজ গার্ডেনে দু’দিনব্যাপী সম্মেলনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা হয়। তৎকালীন মুসলিম লীগ নেতৃত্বের বিরোধিতা করে দলটির প্রগতিশীল অংশ এবং পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী নেতারা সে সময় এই দলটি প্রতিষ্ঠা করেন। গঠনের সময় দলটির নাম ‘আওয়ামী মুসলিম লীগ’ রাখা হলেও ১৯৫৫ সালে অনুষ্ঠিত তৃতীয় জাতীয় সম্মেলনে মুসলিম শব্দটি তুলে দিয়ে ‘আওয়ামী লীগ’ নামকরণ করা হয়। অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল ভাবধারায় ফিরতেই তখন ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়।

আওয়ামী লীগের সম্মেলনগুলো পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বর্তমান সভাপতি শেখ হাসিনা সর্বাধিক নবমবার দলের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। দলটির প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম ও স্বাধীনতার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু টানা চার বার দলটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি চার বার সাধারণ সম্পাদক এবং প্রতিষ্ঠার সময়ে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন।

এছাড়া, অন্যান্য সভাপতির মধ্যে আবদুল হামিদ খান ভাসানী চার বার, আব্দুর রশীদ তকর্বাগীশ, এইএইচএম কামারুজ্জামান ও আব্দুল মালেক উকিল এক বার করে সভাপতি নির্বাচিত হন।

সাধারণ সম্পাদকদের মধ্যে জিল্লুর রহমান দায়িত্বে ছিলেন চার বার; তাজউদ্দিন আহমেদ তিন বার, আবদুর রাজ্জাক ও সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম দুবার করে এবং শামসুল হক, সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী ও আবদুল জলিল এক টার্মের জন্য সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের চলতি টার্মের দ্বিতীয় বার দায়িত্ব পালন করছেন। উল্লেখ্য, ১৯৭৭ সালে জোহরা তাজউদ্দিনকে আহ্বায়ক করে আওয়ামী লীগের ১১তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

আওয়ামী লীগের যত সম্মেলন:

প্রতিষ্ঠা সম্মেলন:- ২৩ ও ২৪ জুন, ১৯৪৯; ঢাকা, রোজ গার্ডেন। সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ও সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক। প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমান। পরবর্তীতে তিনি হন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক।

দ্বিতীয় সম্মেলন:- ১৪-১৬ নভেম্বর, ১৯৫৩; ঢাকা, মুকুল সিনেমা হল। সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ও সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমান। ওই বছর ঢাকার আগে ময়মনসিংহেও আরেকটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

তৃতীয় সম্মেলন:- ২১-২৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৫৫; ঢাকা, রূপমহল সিনেমা হল। সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ও সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমান।

চতুর্থ সম্মেলন:- ৭-৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৭; কাগমারি, টাঙ্গাইল। সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ও সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমান।

পঞ্চম সম্মেলন:- ৬-৮ মার্চ, ১৯৬৪; ঢাকা, ইডেন হোটেল। সভাপতি মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ ও সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমান।

ষষ্ঠ সম্মেলন:- ১৮-২০ মার্চ, ১৯৬৬। ঢাকা, হোটেল ইডেন। সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দিন আহমদ।

সপ্তম সম্মেলন:- ১৯ আগস্ট, ১৯৬৭; ঢাকা, পুরানা পল্টন, আওয়ামী লীগ অফিস। সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দিন আহমদ।

অষ্টম সম্মেলন:- ৪ জুন, ১৯৭০; ঢাকা, ইডেন হোটেল । সভাপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দিন আহমদ।

নবম সম্মেলন:- ৭-৮ এপ্রিল, ১৯৭২; ঢাকা, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। সভাপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান।

দশম সম্মেলন:- ১৮-২০ জানুয়ারি, ১৯৭৪; ঢাকা। সভাপতি এএইচএম কামারুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান।

১১ তম সম্মেলন:- ৩-৪ এপ্রিল, ১৯৭৭; ঢাকা, ইডেন হোটেল। আহ্বায়ক সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দিন। (তবে, এর আগে ১৯৭৬ সালে দল পুনরুজ্জীবনের পর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে মহিউদ্দিন আহমেদ ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী দায়িত্ব পালন করেন।)

১২তম সম্মেলন:- ৩-৫ মার্চ, ১৯৭৮; ঢাকা, সভাপতি আবদুল মালেক উকিল ও সাধারণ সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক।

১৩তম সম্মেলন:- ১৩-১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮১; ঢাকা, হোটেল ইডেন। সভাপতি শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক। সাধারণ সম্পাদক অন্য দল গঠন করে বহিষ্কৃত হলে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হন।

১৪তম সম্মেলন:- ১-৩ জানুয়ারি, ১৯৮৭; ঢাকা, সভাপতি শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী।

১৫তম সম্মেলন:- ১৯, ২০ ও ২১ সেপ্টেম্বর, ১৯৯২; ঢাকা, সভাপতি শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান।

১৬তম সম্মেলন:- ৬-৭ মে, ১৯৯৭; ঢাকা, সভাপতি শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান।

১৭তম সম্মেলন:- ২৬ ডিসেম্বর, ২০০২; ঢাকা। সভাপতি শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল জলিল।

১৮তম সম্মেলন:- ২৪ জুলাই ২০০৯; ঢাকা, বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টার। সভাপতি শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।

১৯তম সম্মেলন:- ২৯ ডিসেম্বর, ২০১২; ঢাকা, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। সভাপতি শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।

২০তম সম্মেলন:- ২২-২৩ অক্টোবর ২০১৬; ঢাকা, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। সভাপতি শেখ হাসিনা, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

২১ তম সম্মেলন:-২০ -২১ ডিসেম্বর ২০১৯ ঢাকা, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। সভাপতি শেখ হাসিনা, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

 

> বিশেষ সম্মেলন:- আওয়ামী লীগের বিশেষ সম্মেলনগুলোর মধ্যে প্রথমটি ১৯৫৩ সালের ১৪ থেকে ১৫ নভেম্বর ময়মনসিংহের অলকা সিনেমা হলে অনুষ্ঠিত হয় । এতে জোট গঠনের প্রস্তাব পাস করা হয়। যার অংশ হিসেবে ১৯৫৪ সালের পাকিস্তানের প্রথম প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেয় আওয়ামী মুসলিম লীগের নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্ট।

১৯৫৬ সালের ১৯ ও ২০ মে দ্বিতীয়বার বিশেষ সম্মেলন ডাকে আওয়ামী লীগ। এই সম্মেলনে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের নির্বাচন যেন ১৯৫৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের পর আর স্থগিত রাখা না হয়, সে জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে চাপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

১৯৫৭ সালে অনুষ্ঠিত তৃতীয় বিশেষ সম্মেলনটি আওয়ামী লীগের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এ সম্মেলনের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হয় কোনও নেতা একই সঙ্গে দলের নেতৃত্ব ও মন্ত্রিসভায় থাকতে পারবেন না। এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করে দলীয় সাধারণ সম্পাদক পদে আসীন থাকেন।

ঐতিহাসিক ছয়দফা কর্মসূচি ঘোষণার পর ১৯৬৬ সালের ৮ মে আওয়ামী লীগের সে সময়ের সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে আটক হওয়ার পর, ১৯৬৭ সালের ১৯ আগস্ট দলের কৌশল নির্ধারণে ডাকা হয় চতুর্থ বিশেষ সম্মেলন। এই সম্মেলনের মাধ্যমে নেতাকর্মীদের ভোটে প্রতিকূল অবস্থায় ৬ দফার পক্ষে সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যার তিন বছর পর রাষ্ট্রপতি ও সাধারণ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে জিয়াউর রহমানের সরকার। আর নির্বাচনকে ঘিরে বিশেষ সম্মেলন ডাকে আওয়ামী লীগ। দলের পঞ্চম বিশেষ জাতীয় সম্মেলন হয় ১৯৭৮ সালের ২৩ নভেম্বর রাজধানীর হোটেল ইডেন প্রাঙ্গণে।

১৯৯৫ সালে ১১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে দলটির ষষ্ঠ বিশেষ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের পুনর্গঠনের দাবি জানানো হয়।

২০০০ সালের ২৩ জুন ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে দলের সপ্তম বিশেষ জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। দলের কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ দুবছর বাড়াতে এই সম্মেলন ডাকা হয়।

পরিশেষে বলতে চাই, গত ১৪ বছরে যারা শেখ হাসিনাকে প্রত্যক্ষ করেছেন তারা এ কথা অস্বীকার করতে পারবেন না যে নেতা হিসেবে তিনি নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে সমর্থ হয়েছেন। তার নেতৃত্বের গুণাবলী শুধু দেশের জনগণের মধ্যে প্রশংসিত হয় নি, বরং তার নেতৃত্ব প্রশংসিত হয়েছেন বিশ্ব দরবারে। বাংলাদেশের নেতা থেকে তিনি বিশ্ব নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। দেশের ভেতরে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে জলবায়ু পরিবর্তন ও নারীর ক্ষমতায়নসহ অনান্য বিষয়ে তিনি সব সময় সরব থেকেছেন বিধায় আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং বড় বড় দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা তার কাজের প্রশংসা করেছেন। এমনকি তার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের নেতারা প্রশংসা করেছেন। কোভিড-১৯ মোকাবেলাই সরকারের সফলতা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের তালিকায় অন্তর্ভুক্তির সুপারিশ প্রাপ্ত হয়েছে। শেখ হাসিনা সরকার চেষ্টা করে যাচ্ছেন ২০৪১ সালে বাংলাদেশকে উন্নত রাষ্ট্রের কাতারে নিয়ে যাওয়ার জন্য। তার এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য তিনি নিরলস পরিশ্রম করে গেছেন গত ১৪ বছর। আর আমাদের বাংলাদেশে প্রায় ১৭কোটি মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হয়ে উঠেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের আজকের যে অবস্থান সেটা অর্জন করা সম্ভব হয়েছে তার দূরদৃষ্টি সম্পন্ন নেতৃত্বের কারনে। তবে তার এই লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করেছে সরকারের ধারাবাহিকতা কারণ বাংলাদেশের মতো দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় সরকারের ধারাবাহিকতা না থাকলে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়। বাংলাদেশের জনগণ তার ওপরে আস্থা রেখে তাকে তার পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করবার সুযোগ করে দিয়েছে। আমাদের বিশ্বাস আগামী ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিতব্য দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণ একই রকমভাবে তার উপরে বিশ্বাস রাখবে কারণ এই মুহূর্তে আমাদের সকলের মাথায় যে বিষয়টি মাথায় রাখা উচিত সেটি হচ্ছে- বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনার বিকল্প এখন পর্যন্ত তৈরি হয়নি। বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশ যেমন সমার্থক হিসেবে ব্যবহৃত হয় ঠিক তেমনিভাবে শেখ হাসিনা বর্তমানে বাংলাদেশের উন্নয়নের আরেক নাম হয়ে উঠেছেন। ফলে, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের হাত ধরে এবং বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এখন উন্নত দেশের অভিমুখে ধাবমান।আর বাংলার মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে নিবেদিত জননেত্রী শেখ হাসিনা পিতার যোগ্য উত্তরসূরি এই কন্যা এক অনন্য ব্যক্তি হিসেবে এবং আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবে ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নিয়েছেন।তাই দেশের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২২তম সম্মেলনে শেখ হাসিনার কাছ থেকে মানুষ কিছু চমকও প্রত্যাশা করে। তিনি বিচক্ষণ ও দূরদর্শী। স্বপ্ন দেখেন ও দেখান। আওয়ামী লীগ সময়ের সঙ্গে পাল্লা দেয়ার সক্ষমতা নিয়ে আজকের সম্মেলন শেষ করুক, এটাই সবার প্রত্যাশা।

পত্রিকা একাত্তর/ মাহতাব হোসাইন