patrika71
ঢাকামঙ্গলবার - ১ নভেম্বর ২০২২
  1. অনুষ্ঠান
  2. অনুসন্ধানী
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আবহাওয়া
  7. ইসলাম
  8. কবিতা
  9. কৃষি
  10. ক্যাম্পাস
  11. খেলাধুলা
  12. জবস
  13. জাতীয়
  14. ট্যুরিজম
  15. প্রজন্ম
আজকের সর্বশেষ সবখবর

হঠাৎ কোটিপতি বেকার যুবক, দুদকে অভিযোগ এলাকাবাসীর

উপজেলা প্রতিনিধি, নালিতাবাড়ী
নভেম্বর ১, ২০২২ ৯:০৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মা ঢাকায় ঝিয়ের কাজ করেন। বাবা মারা গেছেন ছোটবেলায়। ছেলে কয়েক বছর রাজধানীতে সোয়েটার কারখানায় শ্রমিকের কাজ করেছেন। বর্তমান আয়ের উৎস দু-তিনটি গরু নিয়ে পারিবারিক খামার আর প্রায় তিন একর আবাদি জমি। আর এ দিয়েই মাত্র ৭-৮ বছরের ব্যবধানে সেই ছেলে এখন কয়েক কোটি টাকার মালিক।

শুনতে অবাক লাগলেও আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হওয়ার মতো এমন ঘটনায় রীতিমতো গুঞ্জন এলাকায়। স্থানীয়রা জ্ঞাত আয় বহির্ভুত এ সম্পদের কথা উল্লেখ করে সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, দুর্নীতি দমন কমিশন ও গোয়েন্দা বিভাগসহ আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিত একাধিক বাহিনীকে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। এ জন্য অবশ্য হঠাৎ করে কোটিপতি বনে যাওয়া ওই যুবক ও তার বাহিনী অভিযোগকারীদের হুমকীও দিয়ে বেড়াচ্ছে প্রকাশ্যে।

এলাকাবাসীর লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে অনুসন্ধান করে জানা গেছে, শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার ১২নং কলসপাড় ইউনিয়ন পরিষদের বালুঘাটা গ্রাম। এ গ্রামের মৃত ওমর কাজির ছেলে জাহাঙ্গীর আলম জাহিম (৩৫)। জাহিমকে ছোট রেখে মারা যান বাবা ওমর কাজি। মা ফাহিমা বেগম তখন পেটের দায়ে শহরের বাসাবাড়িতে ঝিয়ের কাজ শুরু করেন। কয়েক বছর নালিতাবাড়ী শহরে কাজ করে প্রায় ১৫-১৬ বছর আগে পাড়ি জমান রাজধানীর গুলশান এলাকায়। সেখানে প্রবাসী এক ধনাঢ্য পরিবারের বাসায় ঝিয়ের কাজ শুরু করেন।

ছেলে জাহিমও ততোদিনে প্রাপ্ত বয়স্ক হয়ে রাজধানীর সোয়েটার কারখানায় শ্রমিকের কাজ নেন। প্রায় ৮-১০ বছর কাজ শেষে সে গ্রামের বাড়ি বালুঘাটায় চলে আসেন জাহিম। এখানে আসার পর সামান্য জমি চাষ আর দু-একটি গরু পালন দিয়ে শুরু হয় যাত্রা। কিন্তু মা-ছেলের এতটুকু আয়ের উৎস থেকেই গত কয়েক বছরে ফুলেফেঁপে উঠতে শুরু করে তারা।

প্রায় ৮ বছর আগে বালুঘাটা বাজারে ৫ শতাংশ জমি ১১ লক্ষাধিক টাকা দিয়ে ক্রয় করে। পরবর্তীতে সেখানে মাটি ভরাট করে সেমিপাকা মার্কেট নির্মাণ করে জাহিম। সবমিলিয়ে ওই সময় তিনি প্রায় ২০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন। বর্তমান বাজার মূল্য ন্যুনতম প্রায় ৩০ লাখের উপরে। প্রায় দুই বছর আগে নামা গোল্লারপাড় সরবেশের বাড়ি সংলগ্ন দুই একর ২৫ শতাংশ জমি ২৬ লাখ ৫০ হাজার টাকায় ক্রয় করেন জাহিম।

নালিতাবাড়ী শহরের গাজিরখামার টেম্পু স্ট্যান্ড সংলগ্ন হাজি নীল মাহমুদ একাডেমির পাশে ৭ শতাংশ জমি ৪২ লাখ টাকায় ক্রয় করেন প্রায় এক বছর আগে। প্রায় দুই মাস আগে বালুঘাটা বাজারে প্রবেশের আগে নালিতাবাড়ী-তারাকান্দা রোড সংলগ্ন মোড়ে সম্প্রতি ৪০ শতাংশ জমি ২৬ লাখ টাকায় ক্রয় করেন জাহিম। পরে ওই পুকুর শ্রেণির জমিতে স্কেভেটর লাগিয়ে মাটি ভরাটের পাশাপাশি একপাশে টিনসেড মার্কেট নির্মাণ করা হয়।

যেখানে বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় পয়ত্রিশ লাখ টাকা। সম্প্রতি শহরের নয়ানিকান্দায় বাইপাস এলাকায় ‘হ্যালো বাইপাশ ক্যাফে’ সংলগ্ন ১৭ শতাংশ জমি প্রায় ২৮ লাখ টাকায় ক্রয় করেন। পিপুলেশ্বর-তারাকান্দা মোড় থেকে পিপুলেশ্বর যাওয়ার পথে ৫০ শতক জমি প্রায় ৬ লাখ টাকায় প্রায় দুই বছর আগে ক্রয় করা হয়। কিছুদিন আগে গ্রামের বাড়িতে ৩২ হাত দীর্ঘ টাইলস ও বারান্দাসহ সেমিপাকা একটি ঘর প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে তৈরি করে জাহাঙ্গীর আলম জাহিম।

ঢাকায় একটি ফ্ল্যাট বাসা রয়েছে বলেও মানুষের কাছে বলে বেড়ান তিনি। রয়েছে কয়েকজন দেহরক্ষী বা সঙ্গী। চলাফেরায় এসেছে আভিজাত্যের ছাপ। তার এক মামা এলাকায় কয়েক লাখ টাকা ঋণগ্রস্থ হলে ওই ঋণ পরিশোধ করে দেয় জাহিম। নিজেও কিছুদিন আগে আইপিএল জুয়া খেলে কয়েক লাখ টাকা খুইয়ে দেয়। সবমিলিয়ে বর্তমানে প্রায় ২ কোটি টাকার ওপরে স্থাবর সম্পদের হিসাব পাওয়া গেছে। জনশ্রুতি মতে, রয়েছে আরও গোপন অর্থ। যা তার আয়ের তুলনায় পুরোটাই অসামঞ্জস্য।

এদিকে জ্ঞাত আয় বহির্ভুত সংক্রান্ত অভিযোগ বিভিন্ন দফতরে জানানোর ফলে অভিযোগকারীদের হুমকী দিয়ে বেড়াচ্ছে জাহিম ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা। জাহিমের মা ফাহিমা ঢাকার মালিকের সঙ্গে বিয়ে করে অনেক টাকা-পয়সা পেয়েছেন বলে লোকমুখে বিভিন্ন সময় শোনা গেলেও গণমাধ্যমের সঙ্গে তিনি বলেছেন ভিন্ন কথা। ঝিয়ের কাজ করে তিনি প্রতিমাসে ৩০ হাজার টাকা বেতন পান বলে জানান। এছাড়াও সুদে টাকা লাগিয়ে আয় করেছেন বলেও দাবী করেন জাহিমের মা ফাহিমা। আবার কারও কারও কাছে বলে বেড়াতে শোনা যায়, ঢাকার মালিক তাকে বোনাস বা দান হিসেবে মোটা অংকের টাকা দিয়েছেন।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে মোবাইল ফোনে জাহিম জানায়, তার মা ঢাকায় বড়লোকের বাসায় কাজ করে। সেখান থেকে বছরে তিন-চার লাখ টাকা পায়। সে নিজে সোয়েটার কারখানায় কাজ করে পুঁজি করেছিল। বর্তমানে গরুর খামার, চাষাবাদ আর সুদে টাকা ঋণ দিয়ে সে আয় করে। এসময় অভিযোগের বিষয়টি তার প্রতিপক্ষ প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে তুলেছে বলেও দাবী করে।

পত্রিকা একাত্তর / মনোয়ার হোসেন