যুব উন্নয়নের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসে জামিন নাকচ, দুই আসামি কারাগারে
এর আগে শুক্রবার একই মামলায় আরও পাঁচ আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল
ঢাকা জেলা প্রতিনিধি · ঢাকা
প্রকাশ:
যুব উন্নয়ন অধিদফতরের ‘সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা’ পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলায় গ্রেফতার দুই আসামিকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। তাদের জামিন আবেদনও নাকচ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (১৭ অক্টোবর) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মোহাম্মদ জুনাইদ এ আদেশ দেন। আসামিরা নুর মোহাম্মদ ও জাহাঙ্গীর আলম। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রোকনুজ্জামান।
গ্রেফতারের পর শনিবার তাদের আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, মতিঝিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মির্জা মোহাম্মদ মুক্তা। তিনি আসামিদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। অন্যদিকে আইনজীবী মো. আব্দুল ওয়ারেছ আকন্দ ও মো. শাহীন ইকবাল আসামিদের জামিন চান। রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে। দুই পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
একই মামলায় এর আগে শুক্রবার গ্রেফতার আরও পাঁচজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। তারা হলেন মো. মফিউল ইসলাম, মো. রুবেল ইসলাম, মো. হাসিনুর রহমান ওরফে সুজন, আসাদুল ইসলাম ও এসএম এমদাদুল রহমান।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের রাজস্ব খাতের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা (গ্রেড-১১) পদে ২৪২টি শূন্য পদে নিয়োগ দিতে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল। প্রথম ধাপের এমসিকিউ বাছাই পরীক্ষা ১০ অক্টোবর ঢাকা মহানগরীর ৯৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত হওয়ার কথা ছিল।
বিজ্ঞাপন
এজাহারে বলা হয়, পরীক্ষা শুরুর প্রায় ৫৪ মিনিট আগে, সকাল ১০টা ৬ মিনিটের দিকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানতে পারেন যে ফেসবুকে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রকাশ হয়ে গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রশ্নপত্রটি অধিদপ্তরে রাখা মূল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে মেলানো হলে দুটির মধ্যে হুবহু মিল মেলে।
নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা ধরে রাখতে এরপর পরীক্ষা স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ। এজাহারে বলা হয়েছে, এতে পরীক্ষার জন্য বরাদ্দ সরকারি অর্থ, জনবল ও অন্যান্য সম্পদ অপচয় হয়েছে। প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, মুদ্রণ, সংরক্ষণ, পরিবহন বা বিতরণের যেকোনো পর্যায়ে যোগসাজশে প্রশ্ন ফাঁস হয়ে থাকতে পারে বলেও এজাহারে সন্দেহ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় গত ১১ অক্টোবর মতিঝিল থানায় মামলা করেন যুব উন্নয়ন অধিদফতরের উপপরিচালক মো. আতিকুর রহমান।