patrika71
ঢাকাবৃহস্পতিবার - ১৭ নভেম্বর ২০২২
  1. অনুষ্ঠান
  2. অনুসন্ধানী
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আবহাওয়া
  7. ইসলাম
  8. কবিতা
  9. কৃষি
  10. ক্যাম্পাস
  11. খেলাধুলা
  12. জবস
  13. জাতীয়
  14. ট্যুরিজম
  15. প্রজন্ম
আজকের সর্বশেষ সবখবর

The hero of protecting the family পেলেন ওসি মোস্তাফিজার রহমান

বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান
নভেম্বর ১৭, ২০২২ ১১:৪৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

রংপুর জেলার কোতয়ালী থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জনাব মোস্তাফিজার রহমানকে The hero of protecting the family অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি তারাগঞ্জ থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

গত ১৪ নভেম্বর সন্ধ্যায় দৈনিক মানবকন্ঠ পত্রিকার ১০ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে রংপুর অফিসের আয়োজনে নগরীর ধাপ এলাকায় রাইয়ান্স হোটেল এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে তার হাতে অ্যাওয়ার্ডটি তুলে দেন রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। এসময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক হাজী আব্দুর রাজ্জাক, স্নেহা নর্সিং কলেজ ও স্নেহা মানসিক হাসপাতালের সিইও মনোয়ারুল কাদির মাসুম, জাপা নেতা মেজবাহুল ইসলাম মিলন, শামীম ছিদ্দিকী, দৈনিক মানবকন্ঠ পত্রিকার বগুড়া অফিস প্রধান আবু সাঈদ, দৈনিক মানবকন্ঠ পত্রিকার রংপুর অফিস প্রধান মহিউদ্দিন মখদুমী, জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি এসএম সাব্বির ও সাধারণ সম্পাদক চপল প্রমুখ।

জানা গেছে, অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাফিজার রহমান রংপুর জেলার কোতয়ালী থানায় ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন কালে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কোতয়ালী সদর থানার দরজা জনগণের জন্য খুলে রেখেছিলেন। সদ্যপুস্করিনী ইউনিয়নের কেশবপুর মাদরাসা পাড়ার যুবক ওয়ায়েছ কুরনীর সাথে ছয় বছর আগে বিয়ে হয়েছিল নীলফামারীর মেয়ে শ্যামলীর। দাম্পত্য জীবনে চার বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে তাদের। মাঝে মাঝে সাংসারিক ছোট ছোট কারণে স্বামী এবং শ্বাশুড়ীর ঝগড়া হতো। শ্যামলী মুখ বুঝে সহ্য করে আসছিল। একদিন শ্বাশুড়ীর সাথে ঝগড়া করার কারণে স্বামী ওয়ায়েছ কুরনী স্ত্রী শ্যামলীকে থাপ্প্র মারে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে শ্যামলী। দীর্ঘদিনের জমানো মনের ক্ষোভে রাত কাটিয়ে পরের দিন ভোরে স্বামীর বাড়ী ছেড়ে অজানার পথে পাড়ি জমায় সে। খোঁজা খুঁজির করার পর শ্যামলীকে কোথাও না পেয়ে কোতয়ালী থানায় জানায় তারা। কোতয়ালী থানার ওসি মোস্তাফিজার রহমানের নির্দেশে শ্যামলীকে খুঁজে বের করতে পুলিশী তৎপরতা শুরু হয়। পুলিশ ঘাম ঝরিয়ে শ্যামলীর খোঁজ বের করে থানায় নিয়ে আসে। তারপর স্বামী, শ্বশুড় ও শ্বাশুড়ীকে থানায় ডেকে এনে চলে আলোচনা। ঘটনা শুনে চলে আসেন সাংবাদিক মহিউদ্দিন মখদুমীও। আলোচনায় স্বামী স্ত্রী কেউ কাউকে গ্রহণ করতে চায় না। তালাক অনিবার্য হয়ে উঠে। হঠাৎ চেয়ার ছেড়ে দাঁড়িয়ে যান কোতয়ালী থানার ওসি মোস্তাফিজার রহমান। বলতে থাকেন, চার বছরের এই ছেলে সন্তানের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার অধিকার তোমাদের কে দিয়েছে? এই শিশু সন্তানের ভবিষ্যৎ কী হবে? ওসি জনাব মোস্তাফিজার রহমান বলতে থাকেন, একটি দাম্পত্য জীবনে বিচ্ছেদ হওয়া মানে অনেক ক্ষতি। যার শেষ মুত্যু ছাড়া নেই। এরপর জীবন, সংসার, সন্তান, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ ইত্যাদি বিষয়ে জ্ঞানগর্ব বক্তব্য রাখেন। তখন পিনপতন নিরতায় ওসির রুমটিতে অন্য রকম পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছিল। ওসি মোস্তাফিজার রহমানের কথা শুনে বাস্তবতার জ্ঞানে ফিরে এসে স্বামী স্ত্রী দু‘জনে আবেগ তাড়িত হয়ে কেঁদে ফেলেন। শীতের গভীর রাতে সংসারটি টিকে যায়। এখন শ্যামলী ও ওয়ায়েছ করনীর সংসারে সুখ এসেছে।

ওসি জনাব মোস্তাফিজার রহমান বিভিন্ন থানায় ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও পুলিশী দায়িত্ব পালন করার সঙ্গে স্বামী স্ত্রীর বিরোধ মিটিয়ে শতশত সংসার টিকিয়ে রাখতে ভুমিকা রেখেছেন। ২০১৯ সালে মানবিক কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে বাংলাদেশ পুলিশের সর্বোচ্চ পুরুস্কার আইজিপি পদক প্রদান করা হয়েছিল।

দৈনিক মানবকন্ঠ ফাউন্ডেশন রংপুর অফিস দাম্পত্য কলহ নিরসন করে সংসারে ফিরিয়ে দেয়ার এই ক্ষেত্রটিকে শ্রদ্ধা জানিয়ে ওসি মোস্তাফিজার রহমানকে The hero of protecting the familyঅ্যাওয়ার্ড প্রদান করেন।

পত্রিকা একাত্তর/ হামিদুর রহমান