patrika71 Logo
ঢাকামঙ্গলবার , ১৬ নভেম্বর ২০২১
  1. অনুষ্ঠান
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আন্দোলন
  7. আবহাওয়া
  8. ইভেন্ট
  9. ইসলাম
  10. কবিতা
  11. করোনাভাইরাস
  12. কৃষি
  13. খেলাধুলা
  14. চাকরী
  15. জাতীয়
আজকের সর্বশেষ সবখবর

১৫ দিনের বাচ্চাকে গেটের বাইরে রেখেই অনার্স পরীক্ষা দিচ্ছেন ছাত্রী

পত্রিকা একাত্তর ডেস্ক
নভেম্বর ১৬, ২০২১ ২:২৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ad

সরকারি শরোনখোলা ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের পাশের একটি বাসায় আত্মীয়ের কাছে ১৫ দিন বয়সি নবজাতককে রেখে পরীক্ষা দিচ্ছেন সরকারি সিরাজউদ্দিন মেমোরিয়াল কলেজের অনার্স ১ম বর্ষের এক ছাত্রী।

গত ১৩ নভেম্বর বেলা ৯ টায় বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ সরকারী সিরাজউদ্দিন মোমোরিয়াল কলেজের অনার্স বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী রায়েন্দা শরোনখোলা ডিগ্রি কলেজের পরীক্ষা কেন্দ্রে অনার্স ১ম বর্ষের পরিক্ষায় অংশ নিতে দেখা যায়। কেন্দ্রের পাশের এক বাসায় সদ্য জন্ম নেয়া ১৫ দিন বয়সি দুধের শিশুকে আত্মীয়ের কাছে রেখেই পরিক্ষা দিচ্ছেন মা। পরিক্ষা কেন্দ্রের গেটে নবজাতককে নিয়ে বসে আছেন এক নারী। এখানে নবজাতক কেন—জানতে চাইলে তিনি বললেন, ওর মা পরীক্ষা দিচ্ছে। আর উনি (ওই নারী) নবজাতকের আত্মীয়। শিশুটির বয়স মাত্র ১৫ দিন।

উৎসুক মনে পরীক্ষা কেন্দ্রে ঢুকে দায়িত্বরত শিক্ষককে জিজ্ঞেস করতেই সেই মায়ের খোঁজ মিলল। নাম তাঁর শাহানাজ আক্তার। একমনে লিখে চলেছেন।

আরো পড়ুনঃ  বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে নিহত ১৭

জানা গেল, ১নভেম্বর ভোর ৪ টায় শাহানাজ আক্তারের কোলজুড়ে আসে ফুটফুটে এক মেয়ে । একদিকে প্রথম সন্তান, প্রথম মাতৃত্বের অনুভূতি। অন্যদিকে পরীক্ষা না দিলে পুরো এক বছর পিছিয়ে যাওয়ার চিন্তা। কী করবেন বুঝতে পারছিলেন না তিনি । শেষমেশ ঝুঁকি নিয়েই সদ্য জন্ম নেয়া দুধের সন্তানকে আত্মীয়ের কোলে রেখেই চলে আসেন পরীক্ষা কেন্দ্রে। সন্তান ছিল তার ভাবির কোলে। সেদিন অনার্স বিভাগের ১ম বর্ষের বাংলা ভাষার ইতিহাস ও সংস্কৃতি পত্রের পরীক্ষা ছিল তার ।

এভাবে ১৫দিন বয়সী শিশুকে রেখে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ায় পরীক্ষা কেন্দ্রের কর্মকর্তা ও কলেজের অধ্যক্ষ আশ্চর্য হয়ে যান। পড়াশোনার প্রতি শাহানাজের একাগ্রতা দেখে তাঁর প্রশংসা করেন। শাহানাজ সরকারি সিরাজউদ্দিন মেমোরিয়াল কলেজের শিক্ষার্থী। মোরেলগঞ্জ উপজেলা থেকে প্রায় ৩০ মাইল দুরবর্তী কলেজ রায়েন্দা সরকারি শরোনখোলা কলেজে তাঁরা সবাই পরীক্ষা দেন।

আরো পড়ুনঃ  শেরপুরে জমিজমা নিয়ে বিরোধে বাড়ি-ঘরে হামলা

শাহানাজের স্বামী বলেন ‘স্ত্রী ও সন্তানের জীবনের বিষয়টি চিন্তা করে তাঁকে অনেক নিষেধ করেছি যেন এ পরীক্ষাটা না দেয়। কিন্তু শাহানাজ কথা শুনেনি।’ পরীক্ষা শেষে কথা হয় শাহানাজ আক্তারের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমার পরবর্তী পরীক্ষা ১৮ নভেম্বর । আজকে আমি যদি সাহস করে পরীক্ষাটা না দিতাম তাহলে একটা বছর পিছিয়ে যেতাম’।

পরীক্ষা কক্ষের দায়িত্বে থাকা এক শিক্ষক বলেন , ‘শাহানাজ আক্তার যে সাহস করে পরীক্ষা দিয়েছেন তাঁকে আমি সাধুবাদ জানাই’।

সরকারি সিরাজউদ্দিন মেমোরিয়াল কলেজের বাংলা বিভাগের হেড প্রবীর কুমার নাথ বলেন ‘১২ দিন বয়সী শিশুকে রেখে শাহানাজ যে পরীক্ষা দিচ্ছেন, তা আমি জানতাম না। শাহানাজের স্বামী বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন।’

মোঃ নাজমুল: মোরেলগঞ্জ বাগেরহাট প্রতিনিধি।