patrika71 Logo
ঢাকাশনিবার , ২৮ আগস্ট ২০২১
  1. অনুষ্ঠান
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আন্দোলন
  7. আবহাওয়া
  8. ইভেন্ট
  9. ইসলাম
  10. কবিতা
  11. করোনাভাইরাস
  12. কৃষি
  13. খেলাধুলা
  14. চাকরী
  15. জাতীয়
আজকের সর্বশেষ সবখবর

প্রেমিকের সঙ্গে অভিমান করে কিশোরীর আত্নহত্যা

পত্রিকা একাত্তর ডেক্স
আগস্ট ২৮, ২০২১ ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ad

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার পক্ষিয়া ৯ নং ওয়ার্ডে গত বুধবার প্রেমিকের সাথে মোবাইল ফোনে ঝগরার পর এক কলেজ পড়ুয়া ছাএী অভিমান করে আত্নহত্যা করেছেন।

আত্মহত্যার প্ররোচনার কিশোরীর পরিবার বর্গ – জয় চন্দ্র দাস ( ২৪) তার বাবা উওম চন্দ্র দাস (৫৫) এবং মাতা বিপুলি রানী দাসকে আসামী করে বোরহানউদ্দিন থানায় মামলা করেন যার মামলা নং ( ২২)।

অভিযোগ করে মেয়ের মা খালেদা জানায় -জয় চন্দ্র দাস (২৪) দীর্ঘ দিন যাবৎ নিহা (১৮) কে প্রাইভেট মাস্টার হিসাবে আমাদের বাসায় তাকে পড়াতেন।

বর্তমানে জয় চন্দ্র দাস বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর এয়ারক্রাফটম্যান হিসেবে চাকরী করেন, বরিশাল এয়ারপোর্টে। কিন্তু এরই মাঝে আমার মেয়ে নিহার সাথে জয় চন্দ্র দাসের মধ্যে প্রেম ভালোবাসা এক গভীর সম্পর্কে জড়িয়ে পরেন।

আমি ওদের দুইজনের মধ্যে যে সম্পর্ক তৈরী হয়েছে তা অনেক পরে আস্তে আস্তে টের পাই। আমি জানার পরপরই ছেলেকে বলি তুমি আমার মেয়ে প্রাইভেট পড়াও ভালো কথা তার বিনিময়ে এইরকম প্রতিদান দিবে, এটা কখনও ভাবিনি। জয় চন্দ্র দাস বলেন কাকী সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে। আমি বলি তুমি একটা হিন্দু ধর্মের লোক, আর আমরা হলাম মুসলিম এটা কি ভাবে হয়। এই সমাজ এটাকে ভালো চোখে নিবেনা। জয় চন্দ্র দাস বলেন কাকী আমি নিহাকে ভালোবাসি আমি নিহাকে ছাড়া বাচঁবোনা, নিহাও আমাকে ছাড়া বাঁচবেনা আমি নিহাকে বিবাহ করবো আমার ধর্ম পরিবর্তন করে।

আমি জয় চন্দ্র দাসকে বিভিন্ন ভাবে বুজাই তুমি যে চিন্তা মাথায় নিয়ে ঘুরতেছ এটা কোন দিনও হবার না। তার কিছুদিন পরে আমি জয় চন্দ্র দাস এর বাসায় গিয়ে তার বাবার কাছে জয় চন্দ্র দাস এর সব কিছু পরিস্কার করে বলি।

আপনার ছেলে আমার মেয়েকে ডিস্টার্ব করে এবং এমন কি বিবাহ করতে চায়, এটা কোন ভাবেই হতে পারেনা। আপনি একটা কিছু করেন। জয় চন্দ্র দাসের বাবা বললেন – আমি সেই ছেলে জন্ম দেইনি যে, আমি হিন্দু ধর্মের লোক হয়ে আপনার মুসলিম মেয়েকে বিয়ে করতে বলবো।

এমন ছেলে আমার না। আপনি যান আমি এটার বিচার করবো। তখন আমি চলে আসি বাসায় এবং আমার মেয়েকে অনেক বুজাই, যাতে ভবিষ্যতে এই ছেলের সাথে আর সম্পর্ক না রাখে।

এরপরও জয় চন্দ্র দাস আমার মেয়ের সাথে মোবাইলে কথা বলে। জয় চন্দ্র দাসের বাবাকে নালিশ করেও কোন সূরাহ না করতে পেরে বোরহানউদ্দিন থানায় গিয়ে আকলিমা পুলিশ এর সাথে পরামর্শ করি এবং জয় চন্দ্র দাস এর নামে একটা মামলা করতে চাই। কিন্তু আমার মান সম্মান এর দিকে তাকিয়ে আমি আর মামলা করি নাই।

কিন্তু আমার মেয়েকেও আমি বুঝিয়ে উঠতে পারি নি। আমার মেয়েকে জয় চন্দ্র দাস এমন ভাবে মিথ্যা প্রলোভন দিয়ে বুঝিয়েছে সে নেহাকে সামনের মাসে ৭ তারিখ বিমান বাহিনি থেকে ছুটি নিয়ে মুসলিম হয়ে বিয়ে করবে। এমন আশ্বাস দেন, আমি জয় কে বার বার অনুরোধ করে বারন করার পরও জয় আমার মেয়ের সাথে ফোনে কথা বলা চালিয়ে যায়।

জয় আমাকে বলে কাকী আপনি কোন চিন্তা করবেন না, আমি হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে মুসলিম হয়ে আপনার মেয়েকে বিবাহ করবো।

কিন্তু জয় এখন আর আমার মেয়েকে বিবাহ করতে চায় না, সে বলে আমি এখন চাকুরী করি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে, আমার পক্ষে আপনার মেয়েকে বিবাহ করা সম্ভব না। আমার মেয়ে এ কথা শুনে জয় কে ফোন করে, জয় আমার মেয়ের সাথে খুব খারাপ আচার-আচরণ করেন। এতে আমার মেয়ে আত্মহত্যার পথ বেচেঁ নেয়।

বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জনাব মাজহারুল আমিন বি পি এম বলেন আমরা মামলার ২ নং আসামি কে গ্রেফতার করে ভোলা জেল হাজতে প্রেরন করি। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

মোঃ শামছুদ্দিন খোকন, ভোলা জেলা প্রতিনিধি ।

ad