patrika71 Logo
ঢাকাশনিবার , ৩ জুলাই ২০২১
  1. অনুষ্ঠান
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আন্দোলন
  7. আবহাওয়া
  8. ইভেন্ট
  9. ইসলাম
  10. কবিতা
  11. করোনাভাইরাস
  12. কৃষি
  13. খেলাধুলা
  14. চাকরী
  15. জাতীয়
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে বন্যার আশঙ্কা

পত্রিকা একাত্তর ডেক্স
জুলাই ৩, ২০২১ ৪:৫৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ad

টানা চার দিনের ভারি বুষ্টিপাত ও উজানের পাহারী ঢলে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর বিভিন্ন নদ-নদী, খাল-বিলের পানি বাড়ছে।

সীমান্তবর্তী এ উপজেলায় ভারি বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে ধরলা, বারোমাসিয়া ও নীলকমল নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে স্বল্প মেয়াদী বন্যার পূর্বাভাস দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

ধরলাসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তীরবর্তী হাজারও মানুষ বন্যার আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

এদিকে, উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রাম, শিমুলবাড়ী ইউনিয়নে তিনটি ও নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের চর গোরকমন্ডলের দুটি গ্রাম ধরলা নদীর ভাঙ্গণের কবলে পড়েছে। শত শত বিঘার ফসল নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙ্গণ দেখা দেওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ওই এলাকার ধরলার তীরবর্তী শত শত মানুষ।

উপজেলার চর মেখলি বাসিন্দা ওসমান গণি বলেন, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে ধরলার ভাঙ্গণে ঘরবাড়ি হারিয়ে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছে। এবারও শুরুতেই উপজেলার বড়ভিটা, বুদার চর, চর মেখলি ও বড় বাসুরিয়া গ্রামে ভাঙ্গণ দেখা দিয়েছে।

ইতিপূর্বে ভাঙ্গণে দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি উচ্চ বিদ্যালয়, মসজিদ ও ঈদগাহ ময়দানসহ বিভিন্ন স্থাপনা, আবাদি জমি, গাছপালা এবং শতাধিক পরিবারের বাড়ি ভিটে বিলীন হয়ে গেছে।

এদিকে, ওই এলাকার বাসিন্দারা ভাঙ্গণ রোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সম্প্রতি মানববন্ধনও করেছেন।

রাজারহাট উপজেলার আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র রায় বলেন, শুক্রবার বেলা ১২টা পর্যন্ত ১১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহ হালকা ও মাঝারী বৃষ্টিপাত চলমান থাকতে পারে।

বড়ভিটা ইউপি চেয়ারম্যান মো. খয়বর আলী বলেন, আমরা ভাঙ্গণ রোধে অনেক বার বিভিন্ন জায়গায় আবেদন করেছি। এখনো কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি কর্তৃপক্ষ। ভাঙ্গণের শিকার পরিবারগুলোর মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতারণ করা হবে। তাই তালিকা করা হচ্ছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. ওমর ফারুক বলেন, ওই এলাকার ভাঙ্গণ রোধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে ভাঙ্গণ ঠেকাতে কাজ শুরু করা হবে।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান বলেন, উজানের ঢল ও ভারি বৃষ্টিপাতের ফলে নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। শুক্রবার সকালে শিমুলবাড়ী এলাকার শেখ হাসিনা ধরলা সেতু পয়েন্টে ধরলার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৩০ দশমিক ০৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ মাসের প্রথম সপ্তাহের শেষের দিকে ধরলার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। ফলে নদ-নদী অববাহিকায় একটি স্বল্প মেয়াদী বন্যার সম্ভাবনা রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন দাস বলেন, উপজেলার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা হয়েছে। সভায় বন্যা মোকাবেলার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে বন্যা কবলিত মানুষদের খোঁজখবর রাখা ও যেন আশ্রয় কেন্দ্রসহ নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া যায় এ ব্যাপারে তারা কাজ করবেন বলে নিদের্শনা দেওয়া হয়েছে। তারপরও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ধরলার তীরবর্তী মানুষদের খোঁজখবর রাখা হচ্ছে।

মোঃ নাসিরুল ইসলাম কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

ad