patrika71 Logo
ঢাকামঙ্গলবার , ৭ সেপ্টেম্বর ২০২১
  1. অনুষ্ঠান
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আন্দোলন
  7. আবহাওয়া
  8. ইভেন্ট
  9. ইসলাম
  10. কবিতা
  11. করোনাভাইরাস
  12. কৃষি
  13. খেলাধুলা
  14. চাকরী
  15. জাতীয়
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দুর্নীতিকে না বলি, দুর্নীতিবাজদের না বলি

পত্রিকা একাত্তর ডেস্ক
সেপ্টেম্বর ৭, ২০২১ ১:৪৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ad

দুর্নীতি, দুর্নীতি, দুর্নীতি, সব জায়গায় দুর্নীতি। সরকারি উদ্যোগে গঠিত প্রত্যেকটি প্রকল্পে রাজনীতিবিদ, সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারী দ্বারা দুর্নীতির মহোৎসব চলছে। রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে প্রজাতন্ত্রের প্রায় সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী দুর্নীতির সাথে জড়িত। সরকারের জনস্বার্থে নেওয়া সকল উন্নয়ন প্রকল্পগুলো দুর্নীতিবাজ লোকজনদের কারণে যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে না। এতে দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পরিসংখ্যানে চোখ রাখলে দেশপ্রেমিক মানুষ হতাশাগ্ৰস্থ হবেন খুব স্বাভাবিক বিষয়।

জার্মানির বার্লিনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান টিআই-এর প্রকাশ করা দুর্নীতির ধারণাসূচক এর প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে জানা গেছে।সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হওয়া দেশের তালিকায় টানা পাঁচ বছর শীর্ষ অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০১ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত শূন্য থেকে ১০ স্কেলে স্কোর নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই স্কেলে ২০০১ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত শীর্ষ দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকার এক নম্বরে ছিল বাংলাদেশ। পাঁচ বছরে বাংলাদেশে স্কোর ছিল যথাক্রমে ০.৪, ১.২, ১.৩, ১.৫ ও ১.৭। ২০০৬ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল তৃতীয় (স্কোর-২), ২০০৭ সালে সপ্তম (২), ২০০৮ সালে দশম (২.১), ২০০৯ সালে ১৩তম (২.৪), ২০১০ সালে ১২তম (২.৪), ২০১১ সালে ১৩তম (২.৭)।

২০১২ সাল থেকে নতুন স্কেলে স্কোর নির্ধারণ চালু হয়েছে। বর্তমানে স্কোর নির্ধারণ করা হয় শূন্য থেকে ১০০ স্কেলে। এই স্কেলেও দুর্নীতি হিসাব নিকাশ আগের মতই, অর্থাৎ আমরা দুর্নীতি থেকে বের হতে পারছি না। ২০১২ সালে ১৩তম, ২০১৩ সালে ১৬তম,২০১৪ সালে ১৪তম, ২০১৫ সালে ১৩তম, ২০১৬ সালে ১৫তম,২০১৭ সালে ১৭তম, ২০১৮ সালে ১৩তম,২০১৯ সালে নিম্নক্রম অনুযায়ী বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৪ তম।

যদি কোন দেশে এই রকম ভয়ানকভাবে দুর্নীতি চিত্র দেখা যায়, সেই দেশের উন্নতি হবে কিভাবে? ছয় দফা দাবি বিশ্লেষণ করলে দেখা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জন্য আলাদা মুদ্রা চেয়েছিলেন, আলাদা প্রাদেশিক ব্যাংক চেয়েছিলেন অর্থাৎ তিনি বাংলাদেশের টাকা যাতে বাংলাদেশই থাকে, বাংলাদেশের টাকা যাতে বাংলাদেশের মানুষের কাছে ব্যবহার করা হয় এটার প্রতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জোড় দিয়েছিলেন। কিন্তু ৩০ লক্ষ শহীদের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা পরেও আমরা অর্থনৈতিক মুক্তি পাচ্ছি না। বরং দুর্নীতি করে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হচ্ছে যা ছয় দফা ও স্বাধীনতা চেতনার সম্পূর্ণ বিরোধী কাজ।

২০২০ সালের ২৮ জানুয়ারি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-র পক্ষ থেকে ঢাকায় দুর্নীতির ধারণা সূচক সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়৷ এতে দেখা গেছে ২০২০ সালের দুর্নীতির ধারণা সূচকে (সিপিআই) বাংলাদেশ অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআই) দুর্নীতির ধারণা সূচকে এবার বাংলাদেশের অবস্থান ১৪৬তম। ২০১৯ সালের প্রকাশিত সূচকেও বাংলাদেশ একই অবস্থানে ছিল। দক্ষিণ এশিয়ার আটটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান আফগানিস্তানের পর দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। এবারও ০-১০০ স্কেলে বাংলাদেশ ২৬ স্কোর পেয়েছে, যা ২০১৯ সালের সমান। তবে সর্বনিম্ন স্কোর বা দুর্নীতির ব্যাপকতা সবচেয়ে বেশি এমন দেশ থেকে গণনা করে ১৮০টি দেশের মধ্যে ২ ধাপ পিছিয়ে ১২তম অবস্থানে নেমে গেছে বাংলাদেশ। ২০১৯ সালে নিম্নক্রম অনুযায়ী বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৪ তম। অনুষ্ঠানে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক মো. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ২০২০ সালে দুর্নীতির সূচকে বাংলাদেশের কোন উন্নতি হয়নি। বরং নীচের দিক স্কোরে ২ ধাপ অবনতি হয়েছে। এটা অবশ্যই হতাশাজনক।

এইভাবে দেশের মধ্যে দুর্নীতি চলতে থাকলে দেশ কখনও বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে না।এই বিষয়ে সরকারকে ভাবতে হবে, পরিকল্পনা করতে হবে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করতে হবে। সকল রাজনৈতিক দলের উচিত দুর্নীতিবাজদের নির্বাচনের সময় মনোনয়নপত্র দেওয়া থেকে বিরত থাকা।আর সরকারি চাকরিজীবীদের উচিত দেশ সেবার মনোভাব নিয়ে সরকারি চাকরি করা।

নিশ্চয়ই প্রতিটি কাজের জন্য আল্লাহর কাছে হিসাব দিতে হবে, এখানে মুক্তি পেলেও দুর্নীতির অভিযোগে পরকালে বিপদে পড়ে যেতে হবে। এক কথায় কোন সুস্থ্য মস্তিষ্কের মানুষ দুর্নীতিকে উৎসাহিত করবে না। যদি সত্যিকার অর্থে আমরা দেশকে ভালোবাসি, দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি, ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতাকে মূল্যায়ন করতে চাই, আমাদের সকলের উচিত দুর্নীতিকে না বলা। তাই আসুন দুর্নীতিকে না বলি, দুর্নীতিবাজদের না বলি।

সাখাওয়াত হোসেন: কলামিস্ট ও সংবাদকর্মী।