patrika71 Logo
ঢাকাশুক্রবার , ২ জুলাই ২০২১
  1. অনুষ্ঠান
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আন্দোলন
  7. আবহাওয়া
  8. ইসলাম
  9. কবিতা
  10. করোনাভাইরাস
  11. কৃষি
  12. খেলাধুলা
  13. চাকরী
  14. জাতীয়
  15. টেকনোলজি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সুপার ফাইটারের সুপার হেলমেট

মোঃ সাইফুল ইসলাম
জুলাই ২, ২০২১ ৬:৪১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

হেলমেট ব্যবহার শুরু হয় মূলত মাথায় আঘাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য। যুদ্ধবিমান চালানোর সময় হঠাৎ হার্ড টার্ন নিলে মাথায় ধাক্কা লাগতে পারে সিইডের গ্লাসের সাথে। অথবা ইজেক্ট করলে যাতে নিরাপদে মাটিতে অবতরণ করা যায়।

কিন্তু বর্তমান যুগের যুদ্ধবিমান গুলোর হেলমেট হচ্ছে আধুনিক ডিভাইস। যার মাধ্যমে সকল ধরনের সিচুয়েশন এওয়ারনেস এর পাশাপাশি টার্গেট ও লক করা যায়।

আর সবচেয়ে আধুনিক যুদ্ধবিমান এফ-৩৫ এর হেলমেট হচ্ছে সুপার হেলমেট। যার মূল্য বাংলাদেশী টাকায় মোটামুটি ৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। এর বিশেষত্ব হলো এটির পাইলট নাইট ভিশন সুবিধা পেয়ে থাকে। এছাড়াও রয়েছে এক্স-রে সুবিধা। আর সবচেয়ে আশ্চর্যজনক সুবিধা হচ্ছে পাইলট এই সুপার হেলমেট এর সাহায্যে see through সুবিধা পেয়ে থাকে।

অর্থাৎ পাইলট যদি নিচের দিকে তাকায় তাহলে তাঁর পা দেখাবেনা। সরাসরি নিচের ভূমি দেখতে পারবে। আরো সহজে বলতে গেলে পাইলট যুদ্ধবিমানে বসে থাকলেও অনুভূতি হবে এমন, যে পাইলট শুধুমাত্র একটি খালি চেয়ারে বসে মহাশূন্যে ভাসছে এবং চারপাশে উপরে নিচে তাকালেই সব দেখতে পাচ্ছে।

এই হেলমেটটি এতটাই আধুনিক যে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানে কোনো HUD (Head Up Display) নাই। যাবতীয় তথ্য এই হেলমেটেই প্রদর্শিত হয়। যুদ্ধবিমানকির সকল সেন্সর থেকে সংগৃহীত ডেটা LCD ডিসপ্লেতে প্রদর্শিত হয়। এবং প্রোগ্রামিং এর মাধ্যমে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো হেলমেটে প্রদর্শিত হয়।

আর এই সুপার হেলমেট কিন্তু যে কেউ পরতে পারবেনা। প্রতিটি পাইলটের জন্য আলাদা হেলমেট। এজন্য প্রথমে পাইলটের মাথার 3D স্কেন করা হয়। তারপর সেই স্কেনিং অনুযায়ী সফ্টোয়্যার তৈরি করে লেজার কাটিং এর মাধ্যমে হেলমেট এর ভেতরে খাঁজ কাঁটা হয়। তারপরও কিন্তু সেটা পরিধান করতে পারবেনা। হেলমেট তৈরির পরেও ২ দিনে মোট চার ঘন্টা সময় নিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা করে পাইলট এর চোখের pupil এর মুভমেন্ট অনুযায়ী সবকিছু ইনস্টল করা হয়।

কারণ পাইলট শুধু মাথা নাড়িয়ে টার্গেট লক করবেনা। চোখ দ্বারা এদিকে সেদিকে তাকিয়ে ও টার্গেট লক করতে পারবে। সহজে বলতে গেলে একজন মানুষ সামনে তাকিয়ে মাথা স্থির রেখে শুধুমাত্র চোখ ঘুরিয়ে মোটামুটি ১৮০+ ডিগ্রি পর্যন্ত দেখতে পায়। সেক্ষেত্রে বারবার ঘাড় না ঘুরিয়ে চোখের মাধ্যমে ও অনেক কাজ করা যাবে।

হয়তো এমন দিন খুব দ্রুত আসবে তখন পাইলটের সামনে তিন চারটি এলইডি স্ক্রিনের দরকার ই পরবেনা।

ইফতেখার নাঈম তানভীর : মহেশখালী